প্রযুক্তির সুবিধায় যেন জঙ্গিবাদের বিস্তার না ঘটে: প্রধানমন্ত্রী

এক্সপ্রেস ডেস্ক: জঙ্গিবাদ বিস্তারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কখনই জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে যেন জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে’।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটারে এক আন্তর্জাতিক সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের কাজে গতি বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। জনগণ সরকারের কাছ থেকে নয়, বরং সরকারই জনগণের কাছে গিয়ে সেবা দেবে। দেশে তথ্য-প্রযুক্তি বান্ধব নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের ৯৯ ভাগ এলাকা এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। দেশে থ্রি-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। ফোর-জি প্রযুক্তিও অচিরেই চালু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট নিয়ে ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১ হাজার ৫শ এর বেশি সরকারি ফরম নিয়ে চালু করা হয়েছে ফর্ম পোর্টাল। ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ ও ‘ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি’ নামে দুটি মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে যার মাধ্যমে দেশের ২৩ হাজার ৩শ ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৪ হাজার ৫শ প্রাথমিক বিদ্যালয় সুবিধা পাচ্ছে ১০ হাজার বিষয়ে ১ লক্ষ পৃষ্ঠার কনটেন্ট নিয়ে জাতীয় ই-তথ্যকোষ তৈরি করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ৪শ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়েছে। ১৮ লক্ষ নাগরিক ই-টিআইএন ব্যবহার করছে। ১ হাজার ৩শ ৩৩টি পোস্ট অফিসে পোস্টাল ক্যাশ কার্ড, ২ হাজার ৭শ ৫০টি পোস্ট অফিস ও সাব-পোস্ট অফিসে ইলেক্ট্রনিক মানি অর্ডার চালু করা হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার ৫শ পোস্ট ই-সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে এ পর্যন্ত ১শ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ২০টি মন্ত্রণালয়, চারটি অধিদফতর এবং ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সাতটি বিভাগীয় কমিশনার অফিসে ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু করা, ডিজিটাল মোবাইল কোর্ট সিস্টেম চালু করা, দেশের সকল ভূমি রেকর্ড (খতিয়ান) ডিজিটাল করার কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারনা থেকে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আমাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোর অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শব্দটি আমার ছেলে জয়ই আমাদেরকে উপহার দিয়েছে। তারই পরামর্শে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমরা কাজ শুরু করি। এটি এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।

অনুষ্ঠানে উন্নয়ন উদ্ভাবনে বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকটি জেলার প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনেরও তাগিদ দেন তিনি।

Print
1167 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About jexpress

https://t.me/pump_upp
Close