ভ্যাট আদায়ে র‌্যাবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক:  মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় অভিযানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অংশ নেওয়ার প্রস্তাবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  র‌্যাবের এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে র‌্যাবের প্রস্তাব বিবেচনায় না নেওয়ার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।  ভ্যাট আদায়ে এনবিআরের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে র‌্যাবের আগ্রহ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে তা অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অর্থসচিব ও এনবিআর চেয়রম্যানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে ব্যবসায়ীরা সেনিমার করে আনুষ্ঠানিক ভাবে র‌্যাবের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন, এমন ধারা বাস্তবায়ন হলে তা দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের উপর বিররূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে।  সম্প্রতি র‌্যাব মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ে এনবিআরের পক্ষে অভিযান চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করে এনবিআরকে চিঠি লেখে। চিঠির কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে র‌্যাব প্রচলিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সাড়া দেওয়া হয়নি বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।  বর্তমান আইনে এনবিআর ভ্যাট আদায় ও ভ্যাট ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এ জন্য এনবিআরের নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোথাও প্রয়োজন হলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী এনবিআর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও এনবিআরকে পাঠানো চিঠিতে র‌্যাবের বিভিন্ন অভিযান দেশের সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল, ভেজাল ওষুধ ও কসমেটিকস, ভুয়া ডাক্তার, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অবৈধ ব্লাড ব্যাংক, অবৈধভাবে বন্য প্রাণি ক্রয়বিক্রয়-সংক্রান্ত অপরাধসহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত অন্যান্য আইনে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে সফলতা দেখাচ্ছে।  এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন সংশোধন করে র‌্যাবকে ভ্যাট আদায়ে যুক্ত করার জন্য এনবিআরের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে র‌্যাব। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এমন উদ্যোগ অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাদের মতে, এটা একটা বিশেষায়িত কাজ। একমাত্র এনবিআরই এ কাজ করতে পারে, অন্য কোন সংস্থার পক্ষে তা সম্ভব নয়। এবিষয়ে এনবিআরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়লে বিদ্যমান আইনেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার প্রবনতা বন্ধ করতে কোন সমস্যা দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা এমনিতেই ভ্যাট কর্মকর্তাদের দোষারোপ করে থাকেন, প্রায়শই তারা হয়রানির অভিযোগ করেন। র‌্যাব ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর অনুমোদন চেয়েছে, এটা দেওয়া হলে তার প্রতিক্রিয়া কি হবে সেটাও বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মতামত প্রয়োজন হবে।  ভ্যাট ফাঁকি রোধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এনবিআরকে দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, র‌্যাবের এ প্রস্তাব একেবারেই অযৌক্তিক। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে চায়, হয়রানি চায় না। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এ রকম কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যাতে ব্যবসাীরা আতংকগ্রস্ত হবেন।

Print
903 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close