মৃত্যর পরও ঋণের বোঝা পিছু ছাড়ছেনা সাংবাদিক নিজামউদ্দিনের

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক:  যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন সাংবাদিক সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ঐতিহ্যবাহী নওয়াপাড়া প্রেসক্লারের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম সাংবাদিক ছিলেন নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ। ১৯৭১ সালে খুলনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ছায়াপথ পত্রিকায় সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন তিনি। মফঃস্বল সাংবাদিকতার কঠিন বাস্তবতার সাথে দিনের পর দিন যুদ্ধ করে সমাজের নিপীড়িত-নির্যাতিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে নিজেকে সপে দিয়েছিলেন তিনি।

একাধিক সংবাদপত্রে তার লেখনীর মাধ্যমে মানুষ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখলেও নিজের দিকে তাকানোর ফুসরত পাননি তিনি। সততা ও মানবতাকে পুঁজি করে অন্যের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে করতে কখন যে নিজের জীবনের অমানীশার অন্ধকার নেমে এসেছে তা তিনি বুঝতে পারনেনি। যার ফলে পড়ন্ত জীবনে চরম অর্থকষ্টে ভূগে খেয়ে না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে ৭০ বছর বয়সে গত ৩০ আগষ্ট মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নওয়াপাড়ার সাংবাদিক সমাজের মুরব্বি নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ।

সর্বস্তরের মানুষের চোখের পানিতে চির বিদায় নিলেও তার রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা তার পিছু ছাড়েনি। বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে জীবনের শেষ সময়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন তিনি। ভেবে ছিলেন সামাণ্য চাষাবাদ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বাকি জীবনটি কাটিয়ে দেবেন সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঋণের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার ২ দিন পরই মারাত্মকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন তিনি। সমাজের জন্য, সমাজের মানুষের জন্য বেঁচে থাকার প্রাণান্তর চেষ্টায় নওয়াপাড়ার সাংবাদিকদের বটবৃক্ষ নিজাম উদ্দিন সেই টাকা দিয়ে নিজের চিকিৎসা শুরু করলেন। কিন্তু কে জানতো এই অসুস্থ্যতাই তাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে। চিকিৎসায় ঋণের সব টাকাসহ সহায়-সম্বল হারালেও আর সুস্থ্য হননি তিনি।

শেষে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। হয়তো ভেবেছিলেন মৃত্যুর পরে একটু শান্তির ঘুম ঘুমাবেন। কিন্তু নিজেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। তাই মৃত্যুর পরও কৃষি ব্যাংক থেকে এ সাংবাদিকের নামে ইস্যু করা হয়েছে ঋণ পরিশোধের তাগাদা পত্র। এরই মধ্যে তার সেই ৫০ হাজার টাকার ঋণ সুদে-মূলে দাড়িয়েছে ৬৪ হাজার টাকায়। গত ২৫ নভেম্বর ইস্যুকৃত চিঠিটি তার বাড়িতে পৌছালে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে সহায় সম্বল হারা পরিবারটির উপর। চরম হতাশাগ্রস্থ এ পরিবারটির কাছে এ ঋণের তাগাদা পত্র যেনো মৃত্যু সনদ। কোথা থেকে এ টাকা জোগাড় করবেন এই দুঃশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়া অসহায় পরিবারটি সেই থেকে অদ্যবধি তাগাদা পত্র হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছেন।

Print
1452 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close