১৫ বছর পর মায়ের কাছে ফিরলেন কিশোরগঞ্জের শিখা

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ১০ বছর বয়সে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে এসে ঢাকায় হারিয়ে যান কিশোরগঞ্জের শিখা আক্তার। ১৫ বছর পর আপনজনের কাছে ফিরলেন তিনি। খুলনা থেকে মা রহিমা বেগম ও ভাই রুবেলের সঙ্গে তিনি ফিরেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর পুমাদী গ্রামে।

১৫ বছর পর মায়ের সঙ্গে জন্মভিটায় ফিরতে পেরে দারুণ খুশি ছিলেন শিখা। আর মেয়েকে ফিরে পেয়ে বেজায় খুশি মা রহিমা বেগম। অশ্রুসিক্ত নয়নে মা-ভাইয়ের হাত ধরে শিখা বাসে করে খুলনা থেকে রওনা হয়ে চলে যান কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়ি। পরিবারকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিখার মাঝে পিতা গিয়াস উদ্দীনকে দেখতে না পাওয়ার বেদনাও ভর করেছে। ১৫ বছর পর পরিবারের সবাইকে পেয়েও বাবাকে দেখা হলো না শিখার। ৩ বছর আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

জানা গেছে, ঢাকায় কাজের জন্য এসে এ বাড়ি-ও বাড়ি ঘুরে ঘুরে এক সময় শিখা চলে আসেন খুলনায়। মহানগরীর টুটপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে কাজ পান তিনি। কিছুদিন পর সেখান থেকে শিখা কাজ নেন নিউ মিয়াপাড়া রোডের আবুল হোসেনের বাড়িতে। এ বাড়িতে ঠাঁই হয় তার। সেখানেই ছিলেন ১৫ বছর। শিখার বয়স এখন ২৫ বছর।

মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খোঁজ পায় শিখার। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে সংস্থাটির সদস্যরা খুঁজে পায় তার মা রহিমা খাতুনকে। গত ২৮ জুন সংস্থার উদ্যোগে রহিমাকে খুলনায় আনা হয় এবং এখানেই মা-মেয়ের মিলন হয়। কিন্তু ১৫ বছরের মায়ার টানে শিখা তার মায়ের সঙ্গে তখুনি ফেরেননি। তিনি থেকে যান আবুল হোসেনের বাড়িতে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে গত ২৫ জুলাই শিখাকে তার মা রহিমা বেগম ও ভাই রুবেল হোসেনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক (রাইটস) রিনা রায়, প্রকল্প সমন্বয়কারী বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জালাল উদ্দিন, মো. আজিজুর রহমান, সাবরিনা আফরোজ ও দিলরুবা আক্তার, ১৫ বছর ধরে তাকে পালনকারী মো. আবুল হোসেন ও এম এ রব পিয়াল।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর পুমাদী গ্রামের রহিমা খাতুন ও গিয়াস উদ্দীন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান শিখা আক্তার। বয়স যখন আট-নয় বছর, তখন তুলি নামের স্থানীয় এক মহিলা কাজ দেওয়ার নাম করে শিখাকে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে একটি বাসায় রেখে তুলি চলে যান। এর কিছুদিন পর মারা যান তুলি। এ খবর পাওয়ার পর শিখার পিতা গিয়াস উদ্দীন ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন এলাকায় মেয়ের খোঁজ করেন। কিন্তু মেকে পাননি তিনি। শিখাও নির্যাতন সইতে না পেয়ে ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে ঠাঁই নেন ঢাকার এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায়। সেখানে বছর খানেক থাকার পর পুলিশ কর্মকর্তার গ্রামের বাড়িতে যেতে হয় শিখাকে।  সেখানেও শিখাকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যান শিখা। যেতে চেয়েছিলেন নিজের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। কিন্তু ভুল বাসে উঠে শিখা চলে আসেন খুলনায়। এখানে এক নারীর হাত ধরে শিখা প্রথমেই আসেন মহানগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের একটি বাড়িতে। সেখানে কাজ করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে শিখা ওই বাড়ি ছেড়ে নিউ মিয়াপাড়া রোডে আবুল হোসেনের বাড়িতে কাজ নেয় শিখা।

Print
1580 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About jexpress

https://t.me/pump_upp
Close