রুপকথার মতো অপূর্ব সুইজারল্যান্ড

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: আল্পস পর্বতের মাঝামাঝি অবস্থিত সুইজারল্যান্ড একটি ছোট দেশ। আল্পস পর্বতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী ও ছবির মত সাজানো গ্রাম সুইজারল্যান্ডের  অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তুষার মুকুট পরিহিত আল্পসের চূড়া, ঝিলমিল করা নীল হ্রদ, এমারেল্ড ভ্যালী, হিমবাহ, রুপকথার গল্পের পল্লীর পাশাপাশি এখানে আছে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক রিসোর্ট এবং হাইকিং, বাইকিং, ক্লিম্বিং, স্কিইং, প্যারাগ্লাইডিং ও স্লেজ গাড়িতে চড়ার সুবিধা। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্ন মধ্যযুগীয় পুরনো শহর। জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রিয়া এবং ফ্রান্স দ্বারা পরিবেষ্টিত সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে জেনে নিব এখন।

১। মেটারহর্ন

আল্পস পর্বতের সবচাইতে উঁচু চূড়ার একটি হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের মেটারহর্ন। এই আইকনিক চূড়াটির উচ্চতা ৪৪৭৮ মিটার। ১৮৬৫ সালে প্রথম এই শৃঙ্গে উঠার সময় ৪জন আরোহীই দুঃখজনক ভাবে মৃত্যুবরণ করে। বর্তমানে গরমের সময়ে হাজার হাজার অভিজ্ঞ পর্বতারোহী এই স্থানটিতে যান। এই পর্বতের পাদদেশে মনোমুগ্ধকর গ্রাম জারমেটে অবস্থিত শীর্ষ আন্তর্জাতিক রিসোর্টগুলোর একটি। এখানে আছে ঘোড়ায় টানা গাড়ী, কাঠের তৈরি বাড়ি, বিশ্বমানের হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট। বাতাসের গুনাগুণ ঠিক রাখার জন্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এখানে মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। শীতের সময়ে স্কিইং করার সময় ৩০০ কিলোমিটার ঢালে চলে যেতে পারে মানুষ। গ্রীষ্মের সময়ে হিমবাহ স্কিইং, পর্বতারোহণ, সাঁতার ও টেনিস খেলা জনপ্রিয়। আর্টিকেলের প্রচ্ছদে দেখুন কল্পনার মতো সুন্দর মেটারহর্ন।

২। জাংফ্রোজস

গ্রীষ্ম বা শীত উভয় ঋতুর জন্যই সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো জায়গা গুলোর একটি জাংফ্রো অঞ্চল। এক বা দুই শতাব্দী আগেও দুঃসাহসী অভিযাত্রীরাই কেবল আল্পস পর্বতারোহণের জন্য যেত। বর্তমানে রেলপথের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, সুন্দর হাঁটার বা বাইকে চলার পথ বিভিন্ন ধরণের পর্যটকের জন্যই সহজগম্য। গ্রিন্ডেলওয়াল্ড, মুড়েন, লটারব্রুনেন এবং ওয়েঙ্গেন নামের ৪টি চিত্রানুগ শহর এবং ইগার, মনচ ও জাংফ্রু নামের নয়নাভিরাম ৩টি পর্বত নিয়ে জাংফ্রো অঞ্চল গঠিত। সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রেল ভ্রমণ হল ক্লেইন স্কেইডেক পর্বত থেকে ইগার ও মনচ পর্বতের মধ্য দিয়ে জাংফ্রোজস পর্যন্ত যাওয়া। এই রেল ট্রিপ এর রেলগাড়িটির নাম জাংফ্রুবান।

৩। ইন্টারলাকেন

ইন্টারলাকেন ঘড়ি তৈরির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে পর্যটন রিসোর্ট হিসেবেও জনপ্রিয়। ১৮০০শতকের গোড়ার দিকে পর্যটকেরা ইন্টারলাকেনে যেত পর্বতের নির্মল বায়ু সেবন ও স্পা ট্রিটমেন্টের জন্য। সুইজারল্যান্ডের ৩টি বিখ্যাত পর্বতের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করা ছাড়াও এটি আল্পস পর্বতের বেসক্যাম্প হিসেবেও জনপ্রিয়। যেসব পর্যটকরা ভিন্ন কিছু করতে চান তারা সেখানকার কাঠ খোদাই করা স্কুলে এক বা দুইটি ক্লাস করেন। ক্ষুধার্ত পর্যটকেরা এখানে আলু ও পনির দিয়ে তৈরি ক্লাসিক সুইস ডিশ রাস্লেট খেয়ে থাকেন।

৪। লুসারণ

অনেক পর্যটকের জন্যই লুসারন হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের সারভাগ। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় অংশের প্রবেশদ্বার হচ্ছে লুসারন। লেক লুসারনের ছবির মত সুন্দর দৃশ্যাবলী এবং এর নীচেই দেখা যায় আল্পসের চমৎকার দৃশ্য। চিত্রানুগ পুরনো এই শহরটি গাড়ী মুক্ত, এই শহরের মাঝখানে চিত্রাঙ্কন সম্বলিত আচ্ছাদনসহ একটি কাঠের তৈরি মধ্যযোগীয় সেতু আছে যা ইউরোপেরও সবচেয়ে প্রাচীন সেতু। এখানকার ঐতিহাসিক বাড়িগুলো দেয়াল চিত্রে সজানো থাকে এবং এখানে আছে চমৎকার টাউন স্কয়ার। এগুলো দেখার পর আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কেন লুসারন ভ্রমণ বিলাসী মানুষের কাছে সারা বছরই জনপ্রিয় থাকে। এখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা পাশাপাশি অবস্থিত। উদ্ভাবনী নকশার জন্য সুনাম অর্জন করেছে এই শহর। ফ্রান্সের আর্কিটেক্ট Jean Nouvel   নকশায় নির্মিত The Futuristic Culture and Convention Centre (KKL)  এই শহরের স্থাপত্যকলার উজ্জ্বলতম নিদর্শন।

৫। জেনেভা

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সদর দপ্তর জেনেভায় অবস্থিত। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমটি এবং জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত। এছাড়াও আরো ২০ টি আন্তর্জাতিক সংগঠন আছে এখানে। পরিবেশবাদী পর্যটকদের জন্য জেনেভা আদর্শ স্থান। কারণ জেনেভা “গ্রিন সিটি” বা “সবুজ শহর”। এই শহরের ২০% জমি উদ্যানের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এজন্য একে “পার্কের শহর” ও বলা হয়। ইউরোপের সর্ববৃহৎ আল্পাইন হ্রদ হচ্ছে জেনেভা হ্রদ যা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

৬। জুরিখ

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর। এখানে ৫০টি যাদুঘর ও ১০০টি আর্ট গ্যালারি আছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সুইস ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে কিনতে ভ্রমণকারীরা যখন ক্লান্ত হয়ে যান তখন লেক জুরিখে নৌকা ভ্রমণে যেতে পারেন অথবা কাছাকাছি পাহাড়ে আরোহণ করতে পারেন। সুইজারল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে উৎসর্গ করে নির্মিত রুপকথার দুর্গ “সুইস ন্যাশনাল মিউজিয়াম” দেখার কথা ভুললে চলবে না।

৭। বার্ন

ছবির মত সুন্দর মধ্যযুগীয় শহর বার্ন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী যার আছে ১২শ শতকের পুরোনো ইতিহাস। ১৬শ শতাব্দীর আগে এরা সুইস সঙ্ঘের সাথে যুক্ত হয়নি। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে প্রাচীন ক্লক টাওয়ার যাতে চলন্ত পুতুল আছে, একে Zytglogge  বলে। অন্য জনপ্রিয় স্থান গুলো হচ্ছে মুনস্টার, গোথিক ক্যাথেড্রাল এবং টাউন হল। ইউরোপের দীর্ঘতম আচ্ছাদিত শপিং এলাকা এই প্রাচীন নগরে অবস্থিত যা চার মাইল দীর্ঘ।

“সুইজারল্যান্ডের মন্টিকার্লো” নামে খ্যাত লুগানো, লুসেইন যা লর্ড বায়রন, শেলি ও আরনেস্ট হেমিং ওয়ের মত লেখকদের জন্মস্থান, “The City of Art”  নামে খ্যাত বাসেল, এঙ্গাডিন সেন্ট মরিটজ, মজাদার খাবার ও ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত টিসিনো অঞ্চল গুলোও সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের জন্য চমৎকার স্থান।

Print
1033 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close