তালায় মৃশিল্প টিকিয়ে রাখছেন পতিবন্ধী রেবা পাল

এক্সপ্রেস ডেস্ক: সেলিম হায়দার, তালা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের কালিপদ পালের মেয়ে রেবা রানী পাল (৪৬)। ছোট বেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারান তিনি। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের গৃহধর পালের পুত্র বিশ্বনাথ পালের সঙ্গে বিয়ে হলেও সেখানে ঠাই মেলেনি প্রতিবন্ধি রেবা রানীর। বর্তমানে সংসারে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে পৈত্রিক ভিটায় খলিষখালী গ্রামে বসবাস করেন তিনি। ইতিমধ্যে দু’কন্যার বিয়ে হয়ে গেলেও একমাত্র পুত্র বিশ্বনাথ পাল পৃথক সংসারে বসবাস করেন।

বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাদের সংসার। পূর্ব পুরুষের ব্যবসা খলিষখালী ইউনিয়নের পাল পাড়া নামক স্থানটির নাম সবাই এক নামেই চেনে। কারণ সকলে জানে ঐ পাল পাড়াই কুমুরেরা হাড়ি-পাতিল, কলস, ইট, টালিসহ বিভিন্ন রকম জিনিস মাটি দিয়ে তৈরি করেন। এমনকি ঐ সব হাড়ি-পাতিল খলিষখালী বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে ফেরী করে বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। কিন্তু এখন আর সে সময় নেই। কারণ দেশ এখন উন্নতি শেখরে পৌঁছে যাওয়ায় মাটির তৈরি এসব হাড়ি-পাতিলের কথা কারো মনে নেই। এখন প্লাস্টিক, এনামেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার করছে তারা। যে কারণে মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সরেজমিনে খলিষখালী পাল পাড়া গ্রামে গেলে চোখে পড়ে এক পায়ে ভর দিয়ে চলা রেবা রানী পাল মাটি দিয়ে কলস, সরা, মালসাসহ বিভিন্ন রকম জিনিস তৈরি করছে। কথা হয় প্রতিবন্ধি রেবা রানী পালের সঙ্গে। তিনি এক পর্যায়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। দু’চোখ দিয়ে তার পানি ঝরছিল। তার এক পা নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অনেক মানুষ এসেছে। কিন্তু কেউ এ কথা জিজ্ঞাসা করেনি। তিনি আরো বলেন, আমি তখন খুব ছোট ছিলাম তখন দেশ স্বাধীন হয়নি। সেই সময়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার একটি পা হারিয়ে ফেলি।

লেখাপড়া না করতে পারায় পিতার সংসারে বোঝা হয়ে গেলাম। মাত্র ১৪/১৫ বয়সে আমার বিয়ে হয় যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের গৃহধর পালের পুত্র বিশ্বনাথ পালের সঙ্গে। বিয়ের পরে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে এখন বাবার ভিটেয় বসবাস করতে হচ্ছে। রেবা রানী জানান, প্রতিদিন তিনি ও তাঁর স্বামী মিলে ১৫০টি মালসা, ১৫০টি সরা, ৫০টি কলসসহ বিভিন্ন রকম জিনিস তৈরি করে। সেগুলো শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে তারা কোন রকমে সংসার জীবন অতিবাহিত করছে।

Print
1592 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close