ভারতের ভিসাপ্রাপ্তি সহজকরণের আহ্বান আমুর

যশোর এক্সপ্রেস ডেস্ক: ভারতের ভিসাপ্রাপ্তি সহজকরণে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা খোলার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বর্তমানে বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা পেতে দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ভোগান্তি পেতে হয়। এটি লাঘবে ভারত সরকারের প্রতি এ দাবি জানান আমু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতি পরিষদের দ্বিবার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বাংলাদেশ পর্বের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ বারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— ভারত পর্বের প্রধান অতিথি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পাল, বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল বাসেত মজুমদার, এ কে এম রহমতুল্লাহ প্রমুখ।

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘সম্প্রীতির সৃষ্টি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, রণাঙ্গনের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্রেই আমাদের দুই বাংলা ভাগ হয়েছিল। পাকিস্তানিরা চেয়েছিল এ বাংলার মানুষকে পদানত করে শাসন করবে। ভারতের প্রত্যেকটি মানুষ দলমতনির্বিশেষে বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দু’দুবার বিশ্বভ্রমণ করে বাংলাদেশের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলেছিলেন। যুদ্ধে এ দেশের ৩০ লাখ শহীদের সঙ্গে ভারতেরও প্রায় ১১ হাজার যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছিলেন। আজ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের বিচার হচ্ছে কিন্তু তারাও বসে নেই; বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছে তা দেখে বিশ্ববাসী এখন বিস্ময় প্রকাশ করে। আর তা সম্ভব হয়েছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে অন্যান্য সরকারের পার্থক্য হচ্ছে, জিয়া-এরশাদ ক্ষমতায় এসেছিলেন বন্দুকের নলের মুখে আর শেখ হাসিনা এসেছেন বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়ে, তার পিতার থেমে যাওয়া অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে।’

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক। দু’দেশের মানুষের শরীরে একই রক্ত প্রবাহিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য দু’দেশের মাঝে আসা-যাওয়ার পথ আরও সুগম করা উচিত। দু’দেশের মানুষের আসা-যাওয়া যত বাড়বে তাদের সম্পর্ক আরও অহিংস হবে।’ ‘বর্তমান প্রজন্ম ভারতের অবদানের কথা উপলব্ধি করার জন্য বর্তমানে ইউরোপের অবস্থা দেখতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে যাওয়া এক মিলিয়ন শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পারছে না ইউরোপ। অথচ একাত্তরে এই ভারত দশ মিলিয়ন বাংলাদেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিতেও দ্বিধাবোধ করেনি’ যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘সম্প্রীতির বন্ধনে আমরা সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে আছি। দুই বাংলার মানুষের মাঝে যে গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে তা আলাদা করা অসম্ভব। বাংলা ভাষার যথাযথ সম্মান আমরা দিতে পারিনি। বাংলা-হিন্দির পরিবর্তে এখন ইংরেজির ব্যবহার বাড়ছে, এটা বড়ই দুঃখজনক। কোনো অনুষ্ঠানে ইংরেজির ব্যবহার হতে পারে, তবে পরিবারে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের যোগাযোগে ইংরেজির ব্যবহার ভালো লক্ষণ না। একজন বাংলাভাষী হিসেবে আমি যখন কোনো অনুষ্ঠানে বাংলায় বক্তৃতা শুনি, তখন তা আমার কাছে মনে হয় তীব্র তৃষ্ণায় পাওয়া সামান্য জলের মতো।’ ‘নিজেদের মস্তিষ্ককে ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিশ্ব প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Print
887 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close