পাঁচ মাস আগেই জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছিলেন চা বিক্রেতা বাবুল

এক্সপ্রেস ডেস্ক: পুলিশী হয়রানি বন্ধ ও নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নিরাপত্তা চেয়ে মিরপুর বিভাগ পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন বাবুল মাতব্বর। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাননি তিনি। হয়রানি তো চলছিলই উল্টো বিভিন্ন সময় পুলিশ জোরপূর্বক চাঁদাও নিয়ে গেছে। নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের ৬ মাস পার না হতেই নিরাপত্তার বদলে সোর্স-পুলিশেরই আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেন বাবুল। নিহত বাবুলের পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ দাবি করেছেন।

 বাবুলের ছেলে রাজু মাতুব্বর বলেন, ‘বাবা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছিলেন এটাই কী তার অপরাধ? এই অপরাধেই তাকে প্রাণ দিতে হলো? মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিলেও পুলিশ আর মাদক ব্যবসায়ীরা তার পিছু ছাড়েনি। মাদক ব্যবসায়ী পারুল, সোর্স দেলোয়ার হোসেন, আইয়ুব ও রবিন তারা সবাই গুদারাঘাট এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা বাবাকে আবারও মাদক ব্যবসা করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। বাবা রাজি না হওয়াতে শাহ আলী থানা পুলিশকে দিয়ে তারা হয়রানি করত। চাঁদার জন্যও চাপ দিত। ধরে নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হতো। কয়েকবার বাবাকে ধরে নিয়ে মাদকের মামলাও দিয়েছে পুলিশ।’

নিহতের মেয়ে রোকসানা আক্তার বলেন, বাবা আগে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও পৌনে এক বছর আগে ওই পেশা ছেড়ে চায়ের দোকান দেয়। কিন্তু আগের জের ধরে পুলিশ বাবাকে হয়রানি করতে থাকে। অথচ বাবা ডিসি বরাবর লিখিত মুচলেকা দিয়েই কিন্তু চায়ের দোকান দিয়েছিল। মেয়ে রোকসানা আরো জানান, এরপর গত বছরের ১৬ আগস্ট আবারো ডিসি বরাবর পুলিশী হয়রানি বন্ধ ও স্বাভাবিক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। পুলিশের উপর বিশ্বাস ছিল তাই বাবা ডিসিকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু কে জানতো এভাবে বাবাকে পুলিশ পুড়িয়ে মারবে।

মিরপুর-১-এর গুদারাঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাবুলের পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন। বাবুলের স্ত্রী লাকী বেগম আর্তনাদ করে বলছিলেন, ‘কী অপরাধে এমন শাস্তি দিল পুলিশ? তারা কী মানুষ নন? নিরপরাধ মানুষটারে তারা মেরে ফেলল। আমার ওষুধের খরচ কে জোগাবে? আমার সংসারটা তছনছ করে দিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হাসান সরদার জানান, ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে শাহ আলী থানার ওসি একেএম শাহীন মণ্ডলকেও শুক্রবার প্রত্যাহার করেছেন। বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করতে দুটি কমিটি গঠন করে পুলিশ। এর মধ্যে একটি পুলিশের মিরপুর বিভাগ এবং অপর কমিটি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হেড কোয়ার্টার্স। পুলিশের মিরপুর বিভাগের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- অতিরিক্ত ডিসি মাসুদ আহমেদ ও সহকারী কমিশনার (এসি) মাহবুব হোসেন। ডিএমপির তদন্ত কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে ডিসি (ডিসিপ্লিন) টুটুল চক্রবর্তীকে। উল্লেখ্য, চাঁদার দাবিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুরের গুদারাঘাট এলাকায় পুলিশের সোর্স দেলোয়ার চা বিক্রেতা বাবুলের শরীরের ওপর কেরোসিনের স্টোভ ছোড়ে। এতে দগ্ধ হওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান বাবুল। মিরপুরে জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

Print
1073 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close