মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তনের দাবি মানতে বাধা কোথায়

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর দিয়ে মেট্রোরেলের রুট বদলের দাবি এবং এর পক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপম দত্ত, ফারহান শাহরিয়ার, খাইরুল ইসলাম ও সোহেল তানভীর উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন শিক্ষার্থী  উজমা তাজরিয়ান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তনের দাবি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত ৭ জনুয়ারি মানববন্ধন করে। পাশাপাশি ১৪ জানুয়ারি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাবির পেছনের যু্িক্তগুলো স্পষ্ট করে। এরপর ২০ জানুয়ারি টিএসসিতে সমাবেশ এবং ২৮ জানুয়ারি মাননীয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরমাঝে গত ২৭ জানুয়ারি মেট্রোরেল প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। সেটার প্রেক্ষিতেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে।

মেট্রোরেলের জন্য গণসাক্ষর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ মেট্রোরেল নিয়ে রুটের উত্তর পয়েন্ট উত্তরার দিয়াবাড়িতে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শাহবাগের জাদুঘরে দ্বিতীয় মিটিং হয় একই বছরের ৬মে। সেখানে নানা পেশার ৭০জন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এর উপর করা প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মতামত পাওয়া যায়নি। অথচ রুট পরিবর্তনের দাবিতে অনুষ্ঠিত হওয়া গণসাক্ষরে ১২ হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী ও আরও অনেকে সাক্ষর করেছেন। তাই এতোজনের মতামত উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে রুট নিয়ে যাওয়া উন্নয়নের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক।

ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে মেট্রোরেলের রুটের নেতিবাচক দিক উল্লেখ করে বলা হয়, রুটের পাশেই থাকবে জাতীয় জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি, জাতীয় কবির সমাধি, চারুকলা, রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি প্রাঙ্গণে অবস্থিত বাংলাদেশে টিকে থাকা একমাত্র গ্রীক স্থাপনা, বাংলা একাডেমিসহ তিন নেতার মাজার, ঢাকা গেইট,দোয়েল চত্ত্বর ,কার্জন হল এবং শিশু একাডেমি। যা মেট্রোরেলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এর আগে ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণেই প্রাথমিকভাবে নেওয়া ঢাবি সংলগ্ন রুট বাতিল করা হয়। ওই রুট শাহবাগ থেকে রোকেয়া হল, শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বুয়েট হয়ে চলাচলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বুয়েট ও মেডিক্যালের বাঁধার কারণে যদি ঐ রুট বাতিল করা হয়, তাহলে এখনকার রুটের কারণে ঢাবি কেন বলির শিকার হবে। তাছাড়া, এখনকার রুটটি ঢাবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে চূড়ান্ত করা হয়েছিল গত ২০১১ সালের ৪ জুলাই এক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট অধিবেশনে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধির স্থান শূন্য রয়েছে। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়া কিভাবে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত রুট চূড়ান্ত হলো সেটাও আমাদের জানা নেই।

ডিএমটিসি এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী কাজের অগ্রগতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়, মেট্রোরেলের ডিটেইল ডিজাইনের কাজ শেষ হবে ২০১৬ এর আগস্টে। রাইট অব ওয়ে ও ইউটিলিটি ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ হবে মার্চে, কনট্র্যাক্ট প্যাকেজ ৫-৬ এর টেন্ডার সম্পর্কিত কাজ অক্টোবরে এবং এর সাইনিংয়ের কাজ শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। এমন পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, রুটের অনেকখানি কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাহলে রুট পরিবর্তনের দাবি মানতে কর্তৃপক্ষের বাধা কোথায়।
বাংলা একাডেমি ও পরমাণু শক্তি কমিশনের মধ্যে ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যওে স্টেশন হলে কৃত্রিম যানজট ও ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, রুটের কারণে ক্যাম্পাসের অন্যতম গর্ব একুশে গ্রন্থমেলা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বলয় ও তার কর্মকা- যেমন, চারুকলা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা, টিএসসির সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পাশাপাশি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ নীতিমালা লঙ্ঘন করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে উজমা তাজরিয়ান বলেন, মেট্রোরেলের প্রকল্প যখন হাতে নেওয়া হয় এবং এরপর সয়েল টেস্টের কাজও যখন শুরু হয়ে যায়, তখনও আমরা বুঝতে পারিনি সত্যিই ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে রুট যাবে। যখন এবিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রুট পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করি।

Print
755 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close