৩ লাখ বাংলাদেশিকে বৈধ করছে মালয়েশিয়া

এক্সপ্রেস ডেস্ক: বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়াতে অবস্থান করা ৩ লাখ বাংলাদেশিকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। শনিবার মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার কাউন্সেলর মো. সায়েদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার মালয়েশিয়ার সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। পুনঃনিয়োগ প্রকল্পের অধীনে মালয়েশিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ লাখ অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে ওয়ার্ক পারমিট প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের আলোকেই বাংলাদেশি অবৈধ শ্রমিকদেরও ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ প্রথম ধাপে তিন মাসের জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রদান করবে। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। তিনি জানান, এ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগকর্তারা সরাসরি অনলাইনে শ্রমিকদের নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে করে দালাল বা এজেন্টদের দ্বারস্থ হতে হবে না, অর্থও লাগবে না।  জাহিদ বলেন, অবৈধভাবে অবস্থান করায় শ্রমিক দীর্ঘদিন এখানে থাকছে। একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের মনে হয়েছে নিয়োগকর্তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।  সাবাহ ও সারাওয়াকসহ পুরো মালয়েশিয়াজুড়েই এ বৈধ প্রক্রিয়া চলবে।

উপ-প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিয়োগকর্তারা যদি অনলাইনে শ্রমিকদের নিবন্ধিত করেন তাহলে তাদের কোনও শাস্তি দেওয়া হবে না। নিয়োগকর্তাদের লেভি দিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগকর্তা ও এজেন্টদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। বিদেশি শ্রমিকদের জন্য লেভি ব্যবস্থাও পরিবর্তন করেছে দেশটি। এর আগে শ্রমিকদের ছয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে লেভি আদায় করা হতো। ফেব্রুয়ারি থেকে মাত্র দুটি ক্যাটাগরিতে নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের নিবন্ধন করে লেভি দিতে হবে।  উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের শ্রমিকদের জন্য ২ হাজার ৫০০ রিংগিত এবং চাষাবাদ ও কৃষিখাতের জন্য ১ হাজার ৫০০ রিংগিত লেভি দিতে হবে। চলতি বছরের শুরুতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এর আগে ২০১১ সালেও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মালয়েশিয়া। ওই বছর প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিক নিবন্ধন করে বৈধ হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৫ লাখ শ্রমিককে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছিল। আর দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিককে।

Print
799 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close