তিন দিবসকে সামনে রেখে ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

এক্সপ্রেস ডেস্ক: বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালির চাষিরা। ফুলের ক্ষেত থেকে সময়মত পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। এবারের এ তিন দিবসে ১৫ কোটি ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তাদের।  আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে গদখালির চাষীরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহ করবে। বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার এ অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার কৃষক দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেছে। এবারের বসন্ত বরণ, ভ্যালেনটাইন ডে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গদখালি এলাকার কৃষকরা ১৫ কোটি টাকার মত ফুল সরবরাহ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এবছর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল। আশা করছি কৃষকরা ফুলের ভালো দাম পাবে। তবে এসএসসি পরীক্ষা ফুলের বাজারে কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও তিনি জানান।

ফুলের রাজ্য গদখালি পানিসারা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। সেখানে রঙ বে রঙের জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা ফুল হাতছানি দিয়ে ডাকছে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেতেই চাষিরা গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত। চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেল- বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা জানান, এই তিনটি উৎসবে সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়।
পানিসারা গ্রামের ফুল চাষি ইসমাইল হোসেনের বলেন, প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা ফুল রয়েছে। বসন্ত বরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ফুলের ভরা মৌসুমে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। তাই তুলনামূলক ফুলের চাহিদা কম। পরীক্ষা থাকলে সাধারণত পারিবারিক অনুষ্ঠান স্থগিত থাকে। এতে ফুলের চাহিদা কমে যায়। তবে এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল থাকায় আশায় আছি ফুলের দাম পাবো।
হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের ফুল চাষি নাজির হোসেন বলেন, এক বিঘা গোলাপ ও দুই বিঘা গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করেছি। বর্তমানে গোলাপ ৩টাকা ও গ্লাডিওলাস ২-৪ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের আগে ফুলের দাম বাড়বে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপনে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। ৪ হাজার চারার দাম ৪০ হাজার টাকা। আর রোপনসহ অন্যান্য খরচ আরও ৪০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার রোপনে ৬-৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায় বলে তিনি জানান। স্থানীয় আড়সিংড়ি গ্রামের ক্ষুদ্র পাইকারী ব্যবসায়ী শাহাদৎ হোসেন বলেন, সামনে ভ্যালেনটাইনে ডে’তে ফুল বিক্রি বেশি হবে। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে। গদখালির ফুল ও ফুলের বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রতি বছর যশোরে ফুলের আবাদ বাড়ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ফুলচাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফুল সহজে দেশের বিভিন্নস্থানে পৌঁছাতে রেলের বগি বরাদ্দের বিষয়টিও আলোচনা করছি। ফুল রপ্তানির বিষয়ে জাপানের একটি টিমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আশা করছি এসব উদ্যোগ সম্পন্ন হলে ফুল থেকে আরো লাভবান হবেন চাষিরা।
Print
1311 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close