জঙ্গিরা আবার দেশটাকে দখলের চেষ্টা করছে : ইনু

এক্সপ্রেস ডেস্ক: খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজাকার সমর্থিত জঙ্গি নেতৃত্ব আবার দেশটাকে দখল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, আমাদের স্বপ্নের পেছনে বড় বাধা-ক্ষমতাচ্যুত রাজাকার সমর্থিত জঙ্গি নেতৃত্ব। এই জঙ্গিরা আবার চক্রান্ত করছে বাংলাদেশটাকে দখল করে নেওয়ার। রাজধানীর উত্তরার অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে সোমবার বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে ভালোবেসে পাকিস্তান ও সামরিক শাসনকে বিদায় জানিয়েছি। রাজাকার সমর্থিত জঙ্গি খালেদার সরকারকে পরাজিত করেছি। জঙ্গি রাজাকার সমর্থিত সরকার আর যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি যুদ্ধ করছি। এগুলো হচ্ছে— রাজাকার দমন, জঙ্গি দমন ও উন্নয়নের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আমাদেরকে জিততে হবে। আমাদের সামনের ধাপে জঙ্গিবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা ও দারিদ্র্য থাকবে না। আজ জঙ্গি সমর্থিত সরকার চলে গেছে। কিন্তু আমাদের বুকের ওপর ঝঞ্জা রেখে গেছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই আমাকে বলেন— ইনু তুমি নাকি অনেক বাড়াবাড়ি করো? আমি বিএনপির ওই বন্ধুকে বললাম আমি তো বাড়াবাড়ি করি না। আমি তো মিথ্যা বলি না। সত্য কথাটা বলি। আমি রাজাকারকে রাজাকার বালি, জঙ্গিকে জঙ্গি বলি, বখাটেকে বখাটে বলি। শয়তানের সঙ্গে যুদ্ধ করি। যে মানুষ রাজাকারের পক্ষে কথা বলে সে শয়তানের জন্ম।’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তরুণ-তরুণীদেরকে একুশে বইমেলায় যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনু বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমরা অনেকেই অনেক প্রস্তুতি নিচ্ছি। এদিন অনেকে একে অন্যের হাত ধরাধরি করে ডেটিং করবে। বই মেলায় যাবে। দুই-একটা বই কিনবে। বই-ই একমাত্র জ্ঞানের আলো। আমার যত জ্ঞান সব চুরি করা। তবে সেটা বই থেকে। বইয়ের জ্ঞান চুরি করা অপরাধ না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো সংবিধান নেই। জাতিসংঘ যা পারে না হৃদয় তা পারে। আমরা দেশকে ভালোবেসে একদিন পাকিস্তানিদের উড়িয়ে দিয়েছিলাম। সুতরাং ভালোবাসার টানে রাজাকার, জঙ্গি ও বখাটেদের উড়িয়ে দিতে হবে।’

মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, বঙ্গবন্ধুদের হত্যাকারীদের বিচার করেছি। আগুন সন্ত্রাসীদেরও বিচার করবো। এদের কোনো ক্ষমা নেই। কারণ রাজনীতির নামে মানুষকে নিয়ে কেউ খেলা করতে পারে না।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে, নয় জঙ্গি কারখানা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জঙ্গি কারখানা হতে দেওয়া যাবে না। এখনো বাংলাদেশ অশান্ত। তবে এখনো আমরা হাল ছাড়িনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত লড়াইটা করে যাব।’ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেন, ‘আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তরার নতুন এ ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের নতুন দিগন্ত শুরু হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. দিলীপ কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন— ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ারা বেগম, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, প্রফেসর ড. এম আবুল হোসেন শিকদার, ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক গোলাম সারোয়ার কবির, সৈয়দ মো. হেমায়েত হোসেন, ড. এম শাহীন খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য ইকবাল হোসেন অপু,কোষাধ্যক্ষ ড. রফিক উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল কাইউম সরদার প্রমুখ।

Print
1082 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close