হিলারিকে ভোট দেওয়া মানে যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়া: অ্যাসাঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনকে ‘খারাপ বিবেচনাবোধের যুদ্ধের শকুন’ যিনি ‘দ্রুত মানুষ হত্যায় আবেগাআপ্লুত হয়ে পড়েন’ বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার উইকিলিকসের টুইটার অ্যাকাউন্টে করা এক টুইটে অ্যাসাঞ্জ এ কথা বলেছেন। অ্যাসাঞ্জ লিখেছেন, আজকে ক্লিনটনকে ভোট দেওয়া মানে অনন্তহীন ও অর্থহীন যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়া। অ্যাসাঞ্জ আরও লিখেছেন, হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং সহস্রাধিক গোপন বার্তা বিশ্লেষণ করেছি আমি। হিলারির বিবেচনাবোধের ঘাটতি রয়েছে এবং এটা যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তহীন যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। এতে করে সন্ত্রাসবাদ আরও বাড়বে।

অ্যাসাঞ্জ আরও উল্লেখ করেন, হিলারি ক্লিনটনের ‘খারাপ নীতিগত সিদ্ধান্তে’র কারণেই ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানকে ‘সরাসরি সহযোগিতা’ করেছে। লিবিয়ায় অভিযানের সময় পেন্টাগনের প্রধান ছিলেন হিলারি উল্লেখ করে অ্যাসাঞ্জ আরও লিখেছেন, লিবিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আইএসের জন্য দেশটি স্বর্গে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ার জাতীয় অস্ত্রাগার লুট করা হয়েছে, শত শত টন অস্ত্র সিরিয়ার জিহাদিদের দেওয়া হয়েছে। হিলারি ক্লিনটন ভুল থেকে শিক্ষা নেন না, একই ধরনের ভুল সিরিয়াতেও পুনরাবৃত্তি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন অ্যাসাঞ্জ। তিনি লিখেছেন, লিবিয়া ধ্বংসযজ্ঞ থেকে কিছুই শিক্ষা গ্রহণ না করে হিলারি একই ঘটনা সিরিয়াতেও ঘটান। হিলারির যুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে, লাখের কাছাকাছি নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নারীদের অধিকার কয়েকশ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

২০১১ সালে সিবিএস কে দেওয়া হিলারি ক্লিনটনের একটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য তুলে ধরে অ্যাসাঞ্জ লিখেছেন, হত্যার রোমাঞ্চকর মুহূর্তে হিলারি জুলিয়াস সিজারের মতো মানুষকে অনুকরণ করেছেন। ওই সাক্ষাৎকারে হিলারি লিবিয়াকে ধ্বংসের কৃতিত্ব প্রকাশ্যে দাবি করে বলেছিলেন, ‘আমরা এলাম, আমরা দেখলাম, তিনি (মুয়াম্মার গাদ্দাফি) মারা গেলেন।’ উপসংহারে অ্যাসাঞ্জ লিখেছেন, তাকে (হিলারি) বন্দুকের দোকানের কাছাকাছি যেতে না দেওয়া, একটি সেনাবাহিনী একা পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়া এবং অবশ্যই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে না দেওয়া।

সুইডেনে দুই নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন অ্যাসাঞ্জ। তবে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে, আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। সম্প্রতি অ্যাসাঞ্জকে মুক্তভাবে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছে জাতিসংঘের আইনি প্যানেল। সেই সঙ্গে এতোদিন ‘স্বাধীনতাবঞ্চিত’ করে রাখার কারণে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। আটক রাখার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যাসাঞ্জের আবেদনের প্রেক্ষিতে করা তদন্তের বিস্তারিত জানাতে গিয়ে  ৫ ফেব্রুয়ারি এ সুপারিশ করা হয়। এর আগের দিন অ্যাসাঞ্জকে আটক রাখার সিদ্ধান্তকে বেআইনি উল্লেখ করে রুল জারি করে জাতিসংঘের প্যানেল। তবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের তরফে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে কোনও কিছুর পরিবর্তন হবে না এবং রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।’

সূত্র: আরটি।

Print
1625 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close