যশোর ট্রাফিক অফিসের সামনে বোমাবাজি, ১০ জনের নামে মামলা, পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

এক্সপ্রেস ডেস্ক: প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আলোকে যশোরের গাড়িখানায় পুলিশ ক্লাবের সম্পত্তি দাবি করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও দীর্ঘদিন ভোগদখলে থাকা দোকানীরা বলছেন পুলিশ যথেচ্ছা করেছে। এটা জেলা প্রশাসনের জমি, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া না মেনে গায়ের জোরে পুলিশ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অপরদিকে পুলিশ বলছে বার বার নোটিশ দেয়ার পর সরকারি বিধি মেনেই দখলমুক্ত করা হয়েছে। আর এখন অনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। এদিকে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ী ও পরিবারের পক্ষে গতকাল পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। অপরদিকে বিরোধীয় ওই সম্পত্তি অর্থাৎ ট্রাফিক অফিসের সামনে একটি চক্র বোমাবাজি করেছে বলে ট্রাফিক বিভাগ মামলা করেছে। উচ্ছেদ হওয়া কয়েক ব্যবসায়ীর পক্ষের লোকজনকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিশ। গোটা বিষয়টি নিয়ে যশোর শহরে নানামুখি বক্তব্য চাউর হচ্ছে। কেউ বলছেন পুলিশ এতদিন কোথায় ছিল ? আবার কেউ বলছেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে ওইসব ব্যক্তি কিভাবে অবৈধভাবে পুলিশ ক্লাবের সম্পত্তি দখল করেছিল। আর এর নেপথ্যেই বা কারা ছিল?

গত ৫ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র গাড়িখানা রোডের পুলিশ ক্লাবের সম্পত্তি থেকে দখলদার উচ্ছেদ করে পুলিশ। এরপর সেখানে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়। ওইদিন যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর নুরুল আলম সিদ্দিকী জানান, তাদের যে জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ৮/১০টি দোকান ঘর তৈরি করে ব্যবসায়ীদের ভাড়া দিত। কাকন নামে এক ব্যক্তি পুলিশের সম্পত্তি দখল করে সেখানে আস্তানা তৈরি করে। এ ঘটনার পর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান দখলদারদের জমি খালি করার নির্দেশ দেন। একইসাথে ওই সম্পত্তি উদ্ধার করে পুলিশিং কমিটির অফিস তৈরির ঘোষণা দেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ করা জায়গায় পুলিশ প্রাচীর দিয়ে প্রহরা বসিয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ট্রাফিক অফিস অর্থাৎ অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা জায়গার সামনেই বোমাবাজি হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। ট্রাফিক বিভাগ এ ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি দশ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দিয়েছে। আসামিরা হচ্ছে গাড়িখানার হারুন অররশিদের ছেলে সনি, সেলিম রেজার ছেলে সম্রাট, নুরুল ইসলামের ছেলে রাহাত,  বাবর আলীর ছেলে মাসুম, মহসীন আলীর ছেলে মাসুম, যশোর ঘোপের আলী  রেজা রাজুর বাড়ির সামনের আবু বক্করের  ছেলে আসাদুজ্জামান শিবলু, শংকরপুরের শফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল। তারা ট্রাফিক অফিসের সামনে বোমবাজি করেছে বলে পুলিশের দাবি। এঘটনায় ঘোপের  বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের ছেলে সবুজ ও  বিরামপুরের জগন্নাথ চৌধুরীর ছেলে গোপাল নাথ চৌধুরী ও বিশ্বনাথ চৌধুরী জড়িত থাকতে পারে বলে ট্রাফিক পুলিশের দাবি।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে ১১ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেছে উচ্ছেদ হওয়া পরিবার ও ব্যবসায়ীরা। তাদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, যশোরের গাড়িখানায় সরকারিভাবে বরাদ্দ নিয়ে বসবাসকারী ৪০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে পুলিশ ক্লাব নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দখলে নিয়ে টাঙিয়ে দিয়েছে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড। তিনি বলেন, ১৯১০ সালে শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে গোপীনাথ রায় চৌধুরী, মাসুদ আলম, আসাদুজ্জামান শিপলুসহ বেশ কয়েকজন বংশানুক্রমে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে পুলিশ। এক পর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। কিন্তু বিচারিক আদালতে পুলিশ হেরে যায়। বর্তমানে মামলাটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় রাতের অন্ধকারে এই এলাকার দোকান ও আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ এবং বেশ কয়েকটি দোকান দখল করে দেয়াল তুলে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক আরো জানান, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানও আইন বহির্ভূত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ডিসি, এসপিকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু তা মানছে না পুলিশ। এমনকি যশোরের জেলা প্রশাসকও পুলিশ প্রশাসনকে এভাবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালাতে নিষেধ করেছে। কিন্তু তার কথাও পুলিশ শুনছে না। তিনি অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তদের আন্দোলন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই এলাকায় বোমাবাজি করা হয়েছে এবং এই পরিবারগুলোর মানুষকে আসামি করে মামলা করা হযেছে। এ কারণে খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শেখ ফজলুর রহমান, সেলিনা বেগম, হালিমা ইসলাম, পলি আক্তারসহ অন্যান্যরা। এদিকে এই বিষয়ে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ওই সম্পত্তি পুলিশ ক্লাবের ছিল। এখন সেটি পুলিশ ক্লাব হিসাবে পরিচিতি পাবে। বৈধভাবে সরকারি বিধি মেনেই অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুলিশ আইনগতভাবেই এগিয়েছে। সুযোগ সন্ধানীরা ও সুবিধাবাদীরা পুলিশের এ নৈতিক কর্মকান্ডকে নেতিবাচক করতে রঙ চং  মাখাচ্ছে। এব্যাপারে সকলকে  সচেতন থাকতে হবে। এদিকে যশোর সদর ট্রাপিক ইন্সপেক্টর নুরুল হক সিদ্দিকী জানান, ট্রাফিক অফিসের সামনে একটি চক্র বোমাবাজি করেছে। এব্যাপারে আইনগভাবে মামলা করা হয়েছে যা তদন্ত করছে থানা পুলিশ। দ্রুতই আসামিরা আটক হবে।
Print
1411 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close