শ্রীলংকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ১১তম ‍যুব বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ। এটি যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে ২০০৬ যুব বিশ্বকাপে পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশি যুবারা। ২১৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ৩ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে শ্রীলঙ্কার রান টপকে যায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। লঙ্কানদের ব্যাটিং ইনিংসে ফিল্ডিংয়ে নেমে ১২তম ওভারে এসে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের দেখা পায়। মেহেদি হাসান মিরাজ ফিরিয়ে দেন লঙ্কান ওপেনার সালিন্দু পেরেইরাকে। মেহেদির দারুণ এক ঘূর্ণিতে বলের লাইন মিস করলে লঙ্কান এই ওপেনারকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন জাকের আলি। আউট হওয়ার আগে পেরেইরা করেন ৩৪ রান।

১২তম ওভারে লঙ্কান ওপেনার পেরেইরাকে ফিরিয়ে দিয়ে মাঝে এক ওভার বিরতির পর আবারো বোলিং আক্রমণে এসে মেহেদি হাসান মিরাজ তুলে নেন লঙ্কানদের আরেক ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিসকে। মেহেদির বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে মেন্ডিস ৩১ বলে করেন ২৬ রান। টাইগার যুবাদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত স্পিনে লঙ্কানদের প্রথম তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। ১৮তম ওভারে মেহেদি ফিরিয়ে দেন আভিস্কা ফার্নান্দোকে। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো জাকের আলির গ্লাভসবন্দি হয়ে বিদায়ের আগে তিনি ৬ রান করেন।

ইনিংসের ২৭তম ওভারে এসে টাইগার যুবারা চতুর্থ উইকেটের দেখা পায়। মেহেদি হাসান রানার বলে উইকেটের পেছনে জাকের আলির গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন সামু আসান। বিদায়ের আগে এ লঙ্কান ৩২ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ২৭ রান। লঙ্কানদের হয়ে ১০ রান করা ভিসাদ রান্দিকাকে এলবির ফাঁদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরান সালেহ আহমেদ শাওন। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় শ্রীলঙ্কা তাদের পঞ্চম ব্যাটসম্যানকে হারায়। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারানো লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে রানের চাকা সচল রাখা হাসারাঙ্গাকে ৪৪তম ওভারে বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। আউট হওয়ার আগে তিনি ৩০ রান করেন। একই ওভারের পরের বলে ড্যানিয়েলকেও বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। তবে, হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি এই পেসার। পরের ওভারে রান আউট হন দামিথা সিলভা।

৪৯তম ওভারে আবদুল হালিম ফেরান লঙ্কান দলপতি চারিথ আসালঙ্কাকে। জাকির হাসানের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি ৯৯ বলে ৬টি চার আর একটি ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রান করেন। এক বল বাদেই কুমারাকে (৩) ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে দেন হালিম। টাইগারদের হয়ে ১০ ওভার বল করে ২৮ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন সাইফুদ্দিন ও হালিম। একটি করে উইকেট পান মেহেদি হাসান রানা ও সালেহ আহমেদ শাওন। শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া ২১৫ রানের টার্গেটে টাইগার যুবাদের হয়ে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করতে নামেন জয়রাজ শেখ ও জাকির হাসান। তবে, ইনিংসের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন জাকির। ইনফর্ম এ ব্যাটসম্যান ফার্নান্দোর বলে বোল্ড হওয়ার আগে কোনো রানই সংগ্রহ করতে পারেননি।

শুরুতে ওপেনার জাকিরকে হারালেও রানের চাকা সচল রাখেন জয়রাজ শেখ ও জাকের আলি। তবে, ইনিংসের ১৫তম ওভারে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন ১৯ রান করে অপরাজিত থাকা জাকের আলি। এরপর ১৮তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন ৫৪ বলে ২৬ রান করা জয়রাজ। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বেশ সতর্ক থেকেই খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। উইকেটে সেট হয়ে দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত স্কোরবোর্ডে আরও ৮৮ রান যোগ করেন। দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ বিশ্বমঞ্চের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি করে রান আউট হয়ে ফিরেছেন। ৬৬ বলে দুটি চার আর একটি ছক্কায় ৫৩ রান করে ফেরেন মেহেদি। ইনিংসের ৩৬তম ওভারে মেহেদি রানআউট হওয়ার পর ৩৮তম ওভারে রানআউট হন শান্ত। বিদায় নেওয়ার আগে তিনি খেলেন ৪০ রানের ইনিংস। শান্ত ও মেহেদির পর বিদায় নেন ৩৭ বলে ২১ রান করা শফিউল।

ইনিংসের ৪৮তম ওভারে ১১ রান করে ফেরেন মোসাব্বেক। পরের ওভারে ১৯ রান করে রান করে রানআউটের শিকার হন সাইফুদ্দিন। তবে, বাকি পথটা পার করেন আবারো ব্যাট হাতে ক্রিজে আসা জাকের আলি। ৪৫ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবাদের কাছে তিন উইকেটে হারলে ফাইনালে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। স্বপ্নযাত্রা থমকে যায় মেহেদি হাসান মিরাজের দলের। অন্যদিকে প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে হারে লঙ্কানরা।

 

Print
1053 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close