SAMSUNG CAMERA PICTURES

তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিস : কেচো খুড়তে যেয়ে সাপ বেরিয়ে পড়েছে

এক্সপ্রেস ডেস্ক: তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিসের প্রধান কর্মকর্তার কার্যালয়ে কেচ খুঁড়তে যেয়ে সাপ বেরিয়ে পড়েছে। প্রদর্শনী প্লটের সার ক্রয়ে ২০ লাখ টাকার ঘাপলা ধরা পড়ার পর তিনি তদবীর বানিজ্যে নেমে পড়েছেন। রিপোর্ট ঠেকানোর জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিসের প্রধান কর্মকর্তা সালাম রাজনৈতিক নেতা সাংবাদিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাাঁপ শুরু করেছেন। প্রধান কর্মকর্তা আব্দুস সালাম নিজে এই ঘাপলার সাথে জড়িত। এছাড়া সালাম সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রযেছে। একই সাথে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে যশোরে অবস্থান করে তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিসটি র্দুনীতির সর্গরাজ্যে পরিনত করেছেন।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়,সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্পের আওতায় আগামী ৫ বছরে সারা দেশের মতো যশোরাঞ্চলে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করা হবে। সাধারণত উচুঁ ও দক্ষিনাঞ্চলের লবনাক্ত,খরাপ্রবন,দুইপাহাড়ের মধ্যবর্তী সমতলভ’মি,বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন জাত ও উন্নত প্রযুক্তি চাষীদের মধ্যে পৌছে দেয়ার জন্য প্রদর্শনী প্লট ও ব্লক প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। এজন্য প্রতি বছর সার,বীজ, ও চাষীদের খরচের জন্য সরকারি ভাবে মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। একজন কৃষককে এক বিঘার প্রদর্শনী প্লটের জন্য সর্বনি¤œ ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা দেয়া হয়। সাধারণত প্রতি বছরের জুন মাসে সার ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি বছরে যশোরাঞ্চলে প্রায় দেড়শোটির মতো প্রদর্শনী প্লট ও ব্লক প্রদর্শনী প্লটের জন্য বিভিন্ন প্রকার সার ও বীজ ক্রয় করতে প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে চলতি বছরে সালাম জুন মাসের আগেই বরাদ্দকৃত টাকা উঠিয়ে নিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি ক্রয় নীতিমালা মেনে সার ক্রয়ের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ড প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানেননি যশোর জোনাল অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। মনিরামপুর উপজেলার ৬ জন ডিলারের নকল সীল,প্যাড ব্যবহার করে সালাম নিজেই কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই উচ্চ মুল্যে সার ক্রয় করেছেন। এব্যাপারে সালামের কাছে জানতে চাওয়া হলের আব্দুস সালাম জানান, সকল নিয়মনীতি মেনে  মনিরামপুর উপজেলার তালিকা ভুক্ত ৬ জন ডিলারের কাছ থেকে সার ক্রয় করেছেন। মনিরামপুর উপজেলার সার ডিলার আনোয়ারসহ কয়েকজনের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেখানকার কোন ডিলার তুলাউন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিসে সার সরবরাহ করেনি। সার ক্রয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে সালাম রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ শুরু করেন রিপোর্ট বন্ধ করতে। ইতিপূর্বেও সালামের দুর্নীতি নিয়ে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়। ওই সময় তিনি মন্তব্য করেন তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে কিছু করা যাবে না। কারণ সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা তার পকেটের লোক। তাছাড়া যশোর অফিসের তুলা উন্নয়নের ডিডি আবু জাফরকে টেন্ডার বাবদ মোটা অংকের টাকা দেয় আব্দুস সালাম। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে টেন্ডার ঘাপলার ঘটনায় ঢাকা থেকে তদন্তে আসলে প্রধান কর্মকর্তা সালাম ডিডি আবু জাফরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট নেয়। যে কারণে গত বছর সালাম বেচে যায়। ফলে এবারো সে টেন্ডারে একই ঘাপলা করেছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০০৬ এর ৬৯(১) এবং (৬)(ক) ও (গ) অনুযায়ি কোটেশনে রাজস্ব বাজেটের অধীন ক্রয়ের ক্ষেত্রে পন্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক দুই লাখ টাকা। বৎসরে তিন লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেটের অধীন ক্রয়ের ক্ষেত্রে পন্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়ের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে অনধিক দুই লাখ টাকা। বৎসরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা। এর অধিক হলে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টেন্ডারের আহবান করতে হবে। উল্লেখ্য কোটেশন আহবানের ক্ষেত্রে অনুসরনীয় বিষয় হচ্ছে ক্রয়কারী পত্র,ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক্স মেইলের মাধ্যমে সরবরাহকারীদের নিকট হতে কোটেশন আহবান করবে। পাশাপাশি তাতে কোটেশন দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমা উল্লেখ থাকবে। এছাড়া কোটেশনের বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশের প্রয়োজন না থাকলেও নূন্যতম প্রচারের লক্ষ্যে ক্রয়কারীর নোটিশ বোর্ডসহ ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে।  একই সাথে ক্রয়কারি নিকটবর্তী প্রশাসন শাখার নিকট প্রচারের অনুরোধ পূর্বক প্রচার করতে হবে। এসব কোন কিছুই করেননি তুলা উন্নয়ন বোর্ড যশোর জোনাল অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আব্দুস সালাম।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে নিদিষ্ট কোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে অথবা মূল্য সীমার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য ক্রয় পদ্ধতির কোন একটি পদ্ধতির ব্যবহার অধিকতর যুক্তি যুক্ত না হলে,পন্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা,কার্য বা ভৌত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রে বিবেচ্য পদ্ধতি হিসাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে।
সূত্রটি বলেছে, ২০ লাখ টাকার সার বীজ ক্রয়ে উল্লিখিত কোন নিয়মনীতিও মানা হয়নি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। তবে এবার নির্ধাারিত দেড়শোটি প্লটের পরিবর্তে ১শ টি প্রদর্শনী প্লটে সার বিতরন করা হচ্ছে এবং বাকি ৫০ টি প্লটের সার বিতরনের টাকা আতœসাত করা হয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। সূত্রটি আরো জানায়, বিষয়টি নিয়ে যশোরের সার ডিলারদের মধ্যে তীব্র ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তারা টেন্ডারে অংশ নিতে গেলে মিথ্যা কথা তাদেরকে  ফিরিয়ে দেয়া হয়। সালাম তাদেরকে জানায় তার দপ্তরে সারের কোন টেন্ডার নেই। ডিলাররা সালামের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন। পাশাপশি তারা আব্দুস সালামের অপসারন পূর্বক শাস্তির দাবিতে রাজ পথে মিছিল করবেন বলে সার ডিলারা জানিয়েছেন। এদিকে প্রায় দেড় যুগ ধরে আব্দুস সালাম যশোর জেলায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ৪ বছর যশোর সদরে ও এর আগে ১৫ বছর মনিরামপুর উপজেলায় অবস্থান করেন। দীর্ঘ দেড় যুগ একই জেলায় অবস্থান করায় দুর্নীতির মাধ্যমে সালাম হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মকর্তারা কথা বলার সাহস পান না। এছাড়া সরকারি কাজে গাড়ি ব্যবহারের জন্য যশোর জোনাল অফিসে মাসে ২শ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ করা হয। কিন্তু আব্দুস সালাম পারিবারিক কাজে গাড়ি ব্যবহার করে বরাদ্দকৃত পেট্রোল শেষ করেন। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে আব্দুস সালাম তার ছেলেকে জিলা স্কুলে আনা নেয়া করেন। স্ত্রী মনিরামপুর হাইস্কুলে শিকক্ষকতা করেন। তাকেও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে আনা নেয়া করা হয়। বাড়ির বাজারও করেন গাড়ি ব্যবহার করে। এনিয়ে তার অফিসের স্টাফদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে অফিসের একটি সূত্রে জানা গেছে।

Print
916 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close