ভয়ানক ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারীরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক: লবণাক্ততার প্রভাবে, অসুখ-বিসুখ বাসা বাঁধছে মানবদেহে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে গর্ভবতী নারীরা। মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পান করায়; উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। যা গর্ভকালে অনেক জটিলতা তৈরি করছে।

গর্ভাবস্থায় শিশুর মৃত্যু, অপরিপক্ক কিংবা বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম এমনকি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। পানিতে লবণাক্ততা বাড়ার কারণে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

হাত-পা ফুলে গেছে লাভলী বেগমের। মুখটা চাঁদের মত গোল। গর্ভে ৯ মাসের সন্তান নিয়ে, চিকিৎসা নিচ্ছেন দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

গর্ভধারণের কয়েক সপ্তাহের মাথায় ধরা পড়ে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন। যা তার কিডনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রশ্রাবের সাথে নির্গত হয় প্রটিন। তার এই গর্ভকালীন জটিলতাকে বলা হচ্ছে, প্রিএকলেমশিয়া। যা এই মা ও তার অনগাত সন্তানকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

হাইপারটেনশনে ভুগছিলেন আয়েশা বেগমও। সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় পেটের ভেতরেই মারা গেছে তার সন্তান। একদিকে অসুস্থ শরীর, অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট তাকে বিমর্ষ করে দিয়েছে।

তৃপ্তি সানার কোলে পরম মমতায়, ২৪ দিনের শিশু সৃজন সানা। নিরাপদে পৃথিবীর আলো দেখলেও, ওজন কম হয়েছে, আছে স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা।

খুলনার উপকূলবর্তী দাকোপ উপজেলার এমন অনেক গর্ভবতী হাইপারটেনশনে ভুগছেন। লবণাক্ত পানি পান করাকেই এর কারণ বলছেন, চিকিৎসক।

২০০৮ এ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য এলাকার চেয়ে উপকূলের মানুষের প্রি-একলেমশিয়া ও গর্ভকালীন হাইপারটেনশন বেশি হয়। আর ২০০৯-১০ সালে দাকোপ উপজেলায় পরিচালিত, লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজ ও বিসিএএস এর যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, এখানকার মানুষ যে পানি পান করে, তার সাথে প্রতিদিন ৫ থেকে ১৬ গ্রাম লবণ বা সোডিয়াম শরীরে প্রবেশ করে। যেখানে সহনীয় মাত্রা প্রতিদিন ২ গ্রাম।

গত ছয় দশকে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়েছে, ৪৫ ভাগ। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উচ্চ রক্তচাপসহ নানাবিধ অসুখ। কিন্তু বাড়েনি স্বাস্থ্য সেবা। ইচ্ছা থাকলেও, অধিকাংশ মানুষ, অর্থ ও যোগাযোগের অসুবিধার কারণে চিকিৎসা নিতে পারেন না।

Print
1078 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close