মুস্তাফিজের ইনজুরিতে দায় কার?

স্পোর্টস ডেস্ক: অনুশীলন করতে গিয়ে চোট পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আর খুব স্বাভাবিকভাবেই এর দায়টা চাপছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর! কেননা তাদের ছাড়পত্রের ওপর ভিত্তি করেই মুস্তাফিজ কাউন্টি খেলতে ইংল্যান্ড যাত্রা করেছেন।

এবছরের শুরু থেকেই মূলত ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধ করছেন মুস্তাফিজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কাঁধের ইনজুরিতে সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে দর্শক বনে যেতে হয় কাটার মাস্টারকে। এরপর একই ইনজুরিতে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যেতে পারেননি। এমনকি এশিয়া কাপের ফাইনালসহ শেষ দুই ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বড় অংশ মিস করেন এই তারকা।

সর্বশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) একই রকম ব্যথা অনুভব করেন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএল শেষে এই ইনজুরিটা পুরো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পুরোনো ব্যথাটাই সাসেক্সের হয়ে অনুশীলনের সময় আবার ফিরে আসে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পুরোপুরি ইনজুরি মুক্ত না হলে কেনও খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হলো মুস্তাফিজকে? এই কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিক্যাল ও রিহ্যাবের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এই দায়টা নিতেই হচ্ছে!

নতুন কোনও ইনজুরি হলে এমন প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু ইনজুরিটা যেহেতু পুরনো, সে কারণে প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক। ১১ ঘণ্টার ভ্রমণক্লান্তি কাটিয়ে পরপর দু দিন ম্যাচ খেলার মতো ফিট ছিলেন না মুস্তাফিজ। আরও জানা গেছে, মুস্তাফিজ ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলার মতো ফিট ছিলেন না। তিনি মাত্র একদিনে চার ওভার করার মতো ফিট ছিলেন। সেক্ষেত্রে ১০ ওভার করতে হবে;  এমন ম্যাচে কিভাবে ছাড়পত্র পেলেন তিনি! বিসিবির নির্দেশ সাসেক্স শুনছে না,  নাকি সাসেক্সকে কোনও নির্দেশনাই দেওয়া হয়নি বিসিবির পক্ষ থেকে। যা কিছুই হোক না কেনও-বিসিবি কি এর দায় এড়াতে পারে?

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস এবং জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন দাবি করেছেন,  শুরু থেকেই তাদের ফিজিও সাসেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।  তাদের তরফ থেকে কোনও গাফিলতি ছিল না।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন এ ব্যাপারে জানালেন,  ‘মুস্তাফিজ আমাদের ক্রিকেটের সম্পদ। শুধু মুস্তাফিজ নয়, কোনও ক্রিকেটারকে নিয়েই আমরা কোনও ঝুঁকি নেই না, আপোষ করার প্রশ্নই উঠে না। মুস্তাফিজের ইংল্যান্ড যাওয়ার জন্য আমরা তখনই এনওসি দিয়েছি, যখন ও(মুস্তাফিজ) সবদিক থেকে ভ্রমণ করে ম্যাচ খেলার যোগ্য বলে প্রমাণ হয়েছে।’

এ ব্যাপারে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমার ধারনা মুস্তাফিজ নতুন একটি এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিল বোলিংয়ে। ওতো নতুন নতুন কিছু শিখতে চায়-ব্যথাটা হয়তো সেখান থেকেও আসতে পারে। মুস্তাফিজ হঠাৎ করেই এসেছে, একটু বেশি বোলিং করে ফেলেছে। মুস্তাফিজ চায় নতুন নতুন কিছু করতে, যাতে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করতে পারে। মুস্তাফিজ জানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিভাবে প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া যায়। হয়তো ওইখান থেকে ছোটখাট একটু চোট লাগতেই পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না এমন সিরিয়াস কিছু। সে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।’

Print
820 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close