দুর্নীতিকেই নীতি বানিয়েছেন অধ্যক্ষ, যশোর পলিটেকনিক

এক্সপ্রেস ডেস্ক: অনিয়ম-দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের ভারে ভারাক্রান্ত প্রতিষ্ঠানটি। ইএনটি বিভাগে অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহীনুর রহমান আর একইভাবে কম্পিউটার বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন নাসরিন আক্তার। এসবের নেপথ্যে জড়িত রয়েছেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ড. আব্দুল্লাহ। তিনি তার প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এর প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানটির ১৮শ’ শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত এমন অভিযোগপত্র শিক্ষামন্ত্রী ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দেয়াও হয়েছে। সেই অভিযোগের কপিও সাংবাকিদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

আর এজন্য তাদের ওপর হামলা করেছে প্রভাবশালী অধ্যক্ষের ‘বহিরাগত’ লোকজন। শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এমন অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোর্তজা আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের নামে আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে জোর করে ২০০ টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে। উত্তোলিত প্রায় ৫ লাখ টাকা অধ্যক্ষ নিজ একাউন্টে জমা রেখেছেন। এরপর ৩ দফা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অধ্যক্ষ অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেন। তাই আদৌ এ অনুষ্ঠান হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহ বিনা কারণে ছাত্রছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। অধ্যক্ষ বিশ্ব ব্যাংকের দেড় কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ না করে আটকে রেখেছেন। যা বাংলাদেশের অন্যান্য পলিটেকনিকে বিতরণ করা হয়ে গেছে। তিনি অবৈধভাবে পলিটেকনিক প্রাইমারি স্কুলে বিউটি আক্তার নামে একজন শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেন। একইভাবে ইনস্টিটিউটে প্রশাসনিক কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সোলাইমান, সুমন, হিরণ, চয়ন, ফাতেমা ও একরামকে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের আগের নিয়োগের কর্মচারীদের থেকে বেশি বেতন দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগেও ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। ইএনটি বিভাগে শাহীনুর রহমান ও কম্পিউটার বিভাগে নাসরিন আক্তার নামে দু’জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।

ড. আব্দুল্লাহ স্বনামধন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসাবে যোগ্য নয়- দাবি করে তার অপসারণ চান শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটের প্রায় ১৮শ’ ছাত্রছাত্রীর স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দেয়া হয়েছে। এদিকে, অধ্যক্ষের দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হওয়ায় এবং শনিবার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে আসায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের নির্দেশে এঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেককে ইনস্টিটিটিউট ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। আর সময় সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুমকি দেয়া হয়- তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করলে ‘রেডটিসি’ দেয়া হবে। এরপরও সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাসানুজ্জামান, আবু সাঈদ, রিয়াদ হোসেন, ফরহাদ হোসেন, ইসমাইল হোসেনসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

তবে এসব অভিযোগ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফসল বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, ইনস্টিটিউটের ‘কাজ না করা এবং কাজ করতে না দেয়া’ কিছু শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়েছে। তাদের বুঝিয়ে ক্লাসে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতিথিরা সময় দিতে না পারায় ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান পিছিয়েছে। আর বাজেটের পুরো টাকার সংস্থান এখনও হয়নি।

Print
715 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close