৮০০ কোটি টাকা হ্যাক,ঘটনার অন্তরালে কে বা কারা ?

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক,হলমার্ক এসব প্রতিষ্ঠানের দূর্নীতির সংবাদ পড়ে আমাদের চোখ কপালে উঠেছিলো। সময়ের সাথে সাথে আমরা সেই সব দূর্নীতির কথাগুলো প্রায় ভুলতেই চলেছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা হ্যাক এই সংবাদটি শোনার সাথে সাথেই দেশের মানুষের টনক নড়তে শুরু করেছে। সকলের মনে একই প্রশ্ন মানুষের রক্ত পানি করে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দেশের রিজার্ভের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আদৌ কি নিরাপদ ? প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাবহার অপরিহার্য। তাই প্রতিটি দেশ তাদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যাবহারের সুরক্ষাও নিশ্চিত করে থাকে। অথচ আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই প্রযুক্তি কতটা ভঙ্গুর ও অরক্ষিত সেটা এই ৮০০ কোটি টাকা হ্যাক হওয়া ঘটনার মাধ্যমেই প্রমাণ মিলেছে। একদিকে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলছেন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে রিজার্ভের অর্থ খোয়া গেছে তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে অন্যদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুরক্ষিত তথ্য ব্যাবহার করেই টাকাগুলো পাচার করা হয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষিত তথ্য ও প্রযুক্তিগুত ঘাটতিগুলো অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যতিত সাধারণ মানুষের জানবার কথা নয়। ৮০০ কোটি টাকা হ্যাক,এর অন্তরালে কে বা কারা ? আপাত দৃষ্টিতে এখানে পরিষ্কারভাবে ধারনা করা যেতেই পারে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারো হাত অবশ্যই আছে তা না হলে হ্যাকারদের পক্ষ্যে হ্যাক করা এতোটা সহজ হতো না। যেহেতু বিষয়টি এখন পর্যন্ত তদন্তাধীন অবস্থায় আছে তাই এ সম্পর্কে বেশী কিছু বলা অনুচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে ফিলিপিন ও শ্রীলংঙ্কায় টাকাগুলো পাচার হয়েছে। যাইহোক কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি জেনেই থাকে টাকাগুলো কোথায় গিয়েছে তাহলে অতি সত্তর যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহন করুক। একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি সেই দেশের অর্থনীতি। কোন দেশের জি.ডি.পি , রিজার্ভ অর্থ , মুদ্রাস্ফিতি এইগুলোর পরিসংখ্যানই বলে দেয় দেশটি অর্থনৈতিক ভাবে কতটা শক্তিশালী। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সামগ্রিকভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা ভালো। কিন্তু দেশের রিজার্ভের অর্থ এইভাবে চুরি হতে থাকলে অচিরেই এক আর্থিক সংকটে পরবে দেশ। তাই দেশ ও জাতির কল্যানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ দেশের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ অচিরেই ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা এবং এই ধরনের ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে সেই জন্য কঠোর ও সুরক্ষিত প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা গ্রহন করা।

কামরুল হাসান তুষার
যুগ্ন-আহব্বায়ক,গণজাগরণ মঞ্চ যুক্তরাজ্য

সদস্য,ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

” মুক্তমত প্রকাশিত লেখকের একান্তই নিজস্ব। দৈনিক যশোর এক্সপ্রেস ডটকমের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এসব মন্তব্যের কোনো মিল নেই। লেখকের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে দৈনিক যশোর এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না। ”

Print
1631 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close