হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে নিহত ২

এক্সপ্রেস ডেস্ক: সোনাইমুড়ীর চাষীরহাটে হিজবুত তাওহিদের কর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে হিজবুতের দুই কর্মী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক লোকজন। টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় পুলিশ। সোমবার দুপুর দুটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের পোরকরা গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।  নিহতরা হচ্ছেন- চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার খোকন (৩২) ও মো. আমীর (২৮)। এরা দুজনেই হিজবুত তাওহিদের সদস্য। গুলিবিদ্ধ পুলিশ সদস্য হলেন আব্দুর রহিম। স্থানীয় সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে হিজবুত তাওহীদের কর্মীরা এলাকায় ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গত ২০০৯ সালে স্থানীয় লোকজন হিজবুহ তাওহিদের সদস্যদের ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আবারো এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হিজবুত তাওহিদ চাষীরহাটে সমাবেশ করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয় ও একটি মসজিদ নির্মাণ করে। এতে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কয়েক দিন ধরে ওই সংগঠনের বহিরাগত কর্মীদের এলাকায় আনাগোনা বেড়ে যায়।

সোমবার দুপুরে স্থানীয় গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব ব্যাপার নিয়ে স্মারকলিপি দেন। পরে এলাকাবাসী একটি মিছিল নিয়ে গ্রামে ফেরার পথে পোরকরা এলাকায় নূরুল হক মেম্বারের বাড়ি এলাকায় পৌঁছলে হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।  সংঘর্ষে হিজবুত তাওহীদের দুই কর্মী নিহত ও পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অন্তত শতাধিক গ্রামবাসী। এসময় উত্তেজিত জনতা হিজবুত তাওহিদের সদস্যদের অবস্থানরত নূরুল হক মেম্বারের বাড়ির ৫টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ১১০ জন হিজবুত তাওহিদের সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Print
586 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close