সোনাইমুড়িতে হামলা চালিয়েছে হেফাজত-জামায়াত

এক্সপ্রেস ডেস্ক: নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে হেযবুত তওহীদের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং হতাহতের ঘটনায় হেফাজত-জামায়াতকে দায়ী করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনির্টিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের মুখপাত্র এস এম সামসুল হুদা এ অভিযোগ করেন। জামায়াত-হেফাজতকে এই হামলার দায়ী করে বলেন, ‘সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলনে হেযবুত তওহীদ গত ২১ বছর সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে জঙ্গিবাদ, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছে। এ কারণে প্রথম থেকেই জঙ্গিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী, ধর্ম নিয়ে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি করে, ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ্রচার চালিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ বাড়ি-ঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ মানুষকে আহত নিগত পর্যন্ত করেছে।’ তারা বলেন, সোমবারের হামলার নেতৃত্বে দিয়েছে স্থায়ী জামায়াত-হেফাজতের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-হেফাজতকে ধর্মব্যবসায়ী। আখ্যায়িত করে সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গতকালের ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সংগঠনের ৩ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা, শতাধিক সদস্যকে আহত, লাখ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে এবং ১৫টি মোটরসাইকেলে ও দুটি বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিহত দুই সদস্যের লাশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার মতো নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছে হামলাকারীরা।

এই প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখপাত্র বলেন, সোমবারের ঘটনা সংঘটনের উদ্দেশ্যে হেফাজত-জামায়াত এবং আরো কিছু সংগঠনের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে গত শুক্রবার জুমার সময় পোরকরা গ্রামের মসজিদে সমজিদে মুসল্লিদের মাঝে নাম ঠিকানা বিহীন হেযবুত তওহীদ একটি কুফরি সংগঠন’ শিরোনামে একটি উড়ো হ্যান্ডবিল বিলি করে। তারপর হেযবুত তওহীদ সদস্যদের উক্ত গ্রামে থেকে উচ্ছেদ করার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য ও বে-আইনি ফতোয়া দিয়ে মুসল্লীদের উত্তেজিত করে তোলে। এরপরইর  জামায়াত-হেফাজতের নেতাকর্মীরা হেযবুত তওহীদের কর্মীদের কাফের খ্রিষ্টান ইত্যাদি ফতোয়া দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর জাবালিয়ে দেয়ার জন্য জনগণকে উসকানি দিতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে কয়েকদির ধরে বারবার অবগত করার পরও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ব্যাপারে আমরা ১৩ মার্চ সোনাইমুড়ি থানায় ষড়যন্ত্রকারীদের নাম ঠিকানা দিয়ে লিখিত আবেদন করি। ঘটনার দিন সকালে সহিংস ঘটনা সংঘটনের ষড়যন্তুমূলক নিরসনমূলক আইনগত সহায়তা চেয়ে নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করি। কিন্তু প্রশাসনের চোখের এমন ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র এস এম সামসুল হুদা বলেন, ২০০৯ সালেও একই গ্রামে ফতোয়াবাজি করে সাধারণ মুসল্লীদের ধর্মবিশ্বাসকে ভূল খাতায় প্রবাহিত করে ৮টি বাড়ি লুট করে আগুনধেরিয়ে দেয়। এরই পুনারাবৃত্তি সোমবার ঘটলো। হেযবুত তওহীদের ব্যাপারে এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জাময়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। আমরা অবিলম্বে এই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় আমির মো. মসীহ-উর রহমান।

Print
604 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close