যশোরে বাড়ছে মাছের উৎপাদন

এক্সপ্রেস ডেস্ক: বৃহত্তর যশোর জেলায় মৎস্য চাষ উন্নয়নে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য খুলনা বিভাগের চারটি জেলার ২১টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে বিশেষ প্রকল্প। এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দিতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা। অনুমোদন পেলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। যেসব উপজেলায় মাছের উৎপাদন বাড়ানো হবে সেগুলো হচ্ছে, যশোর জেলার সদর উপজেলা, ঝিকরগাছা, অভয়নগর, কেশবপুর, মনিরামপুর, শার্শা, চৌগাছা ও বাঘাপাড়া উপজেলা। নড়াইল জেলার সদর উপজেলা, কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলা। মাগুরা জেলার সদর উপজেলা,শালিখা, শ্রীপুর ও মুহম্মদপুর উপজেলা। ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলা, শৈলকূপা, হরিণাকুণ্ডু, কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও কোটাচাঁদপুর উপজেলা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী জানান, বৃহত্তর যশোর জেলার নির্বাচিত জলাশয়সমূহের পুনঃখনন এবং স্বল্প ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে মৎস্য আবাসস্থলের উন্নয়ন, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, বিলুপ্তপ্রায় মৎস্যের পোনা মজুদকরণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে চাষযোগ্য ও আহরণযোগ্য উভয় মৎস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি প্রকল্প এলাকায় জেলে সম্প্রদায়, দারিদ্র্য ও ভূমিহীনদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে ৮টি নদী ও তাদের শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত রয়েছে। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বিল, বাঁওড়, খাল, মরা নদী ও পুকুর রয়েছে। এসব জলাশয় সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এ অঞ্চল মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে এ অঞ্চলের ৩৫ হাজার হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১ হাজার পুকুর ও দীঘি হতে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদিত হচ্ছে। এ ছাড়া এ অঞ্চলের ৩৫ হাজারটি গলদা চিংড়ি ঘের হতে ১০ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি এবং ২০০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মৎস্য উৎপাদিত হচ্ছে।

যশোর জেলায় ৭০টি বাঁওড় রয়েছে, যেগুলো থেকে প্রতিবছর ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদিত হয়। এছাড়া এ জেলায় ৩ হাজার হেক্টর উন্মুক্ত (বিল, খাল, নদী, পুকুর এবং ধানক্ষেত) রয়েছে। যেগুলো প্রতিবছর ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য উৎপাদন করে থাকে। দেশের মোট কার্প পোনা উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এই জেলায় উৎপাদিত হয় এবং দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে জলাশয়সমূহে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং মৎস্য উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের ৪টি জেলার ২১টি উপজেলায় মৎস্য চাষ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে প্রকল্পটি মোট ৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৪ সালের জুলাই হতে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। প্রকল্পটির ওপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় কতিপয় সুপারিশ পরিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটির ব্যয় ৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা হ্রাস করে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশ মোতাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির ব্যয় ৩৪ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকায় পুনর্গঠনপূর্বক ২০১৬ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের জন্য পাঠায়। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, বাঁওড় পুনঃখনন ১৫০ হেক্টর এবং বিল নার্সারি উন্নয়ন ৫০ হেক্টর, ৪২ হেক্টর অভয়াশ্রম স্থাপন, ৬টি মৎস্য অবতরণকেন্দ্র নির্মাণ, ২০টি সিঙ্গেল ভেন্ট পাইপ কালভার্ট নির্মাণ, ১৫৫ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন কার্প ও দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের পোনা মজুদকরণ বা অবমুক্তকরণ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় ওএলপি (অক্সবো লেক প্রজেক্ট)-এর মাধ্যমে নির্মিত অবকাঠামো সংস্কার মেরামত করা হবে।

Print
1123 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close