বিশ্বের মোট উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা কত? গবেষণায় নতুন তথ্য

এক্সপ্রেস ডেস্ক: পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা কত? এখনো পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ উদ্ভিদের হিসাব বের করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যার ওপরে বিজ্ঞানীদের করা এই প্রথম গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে সংখ্যাটি। যুক্তরাজ্যের কিউ রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস এই প্রথম বিশ্বের সমস্ত উদ্ভিদকুলের ওপরে একটি জরিপ চালিয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, পৃথিবীতে মোট ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯শ’ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। তার মধ্যে ২০১৫ সালে ২ হাজার ৩৪টি নতুন উদ্ভিদ প্রজাতি আবিষ্কার করা হয়েছে। গবেষণায় সেইসাথে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২১ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি এই মুহূর্তে বিলুপ্তির মুখে রয়েছে। এর পিছনে দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন, উদ্ভিদের আবাস্থলের ক্ষয়, রোগ এবং ক্ষতিকর প্রাণী প্রজাতি। কিউ রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের পরিচালক অধ্যাপক ক্যাথি উইলিস বলেছেন, ‘পৃথিবীতে ঠিক কি পরিমাণ উদ্ভিদ প্রজাতি কোথায় কিভাবে রয়েছে এবং তাদের পারস্পারিক যোগাযোগ জানাটা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা আমাদেরকে খাবার, জ্বালানি ও ঔষধ দেয়। তারা এমনকি আমাদের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে।’

গবেষকরা মোট উদ্ভিদের উপরে বিজ্ঞানীদের পুরনো তথ্য ভাণ্ডার অনুসন্ধান করে এবং নতুন প্রজাতি যোগ করে মোট প্রজাতি সংখ্যা বের করেছেন। অধ্যাপক ক্যাথি বলেন, এখনো এতো বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে যেগুলোর সম্বন্ধে আমাদের কোন ধারণা পর্যন্ত নেই। তবে জরিপ চলাকালে পূর্বের রেকর্ডগুলো থেকে গবেষকরা বেশ কিছু পুরনো প্রজাতির একের অধিক রেকর্ড খুঁজে পেয়েছেন। কিছু উদ্ভিদকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদবিদরা ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়েছেন। জরিপের সর্বশেষ ফলাফল মতে, অ্যালজি (শেওলা), মসেস (শৈবাল), লিভারওর্থস (ফুলবিহীন এক ধরনের গাছ) ও হর্নওর্থস (সামুদ্রিক গাছ) ব্যতিত পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ নব্বই হাজার ৯শ’ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ প্রজাতিই ফুল দেয়।

ক্যাথি বলেছেন, ‘এই হিসাবটা আসলে ভাসাভাসা একটা ব্যাপার মাত্র। এখনো হাজারো প্রজাতি সম্পর্কে আমরা জানিনা।’ বিজ্ঞানীরা প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন প্রজাতির অনুসন্ধান এবং আবিষ্কার করেছেন। যেমন, গত বছর পশ্চিম আফ্রিকার গাবন অরণ্যে (Gilbertiodendron maximum) গিলবার্টিওডেনড্রন ম্যাক্সিমাম নামের একটি নতুন গাছ আবিষ্কৃত হয়েছে। বেগোনিয়া ফুলগাছের ৯০টি এবং পেয়াজের ৫টি নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। তাছাড়া ব্রাজিলে পোকামাকড় ভক্ষণকারী উদ্ভিদ ড্রোসেরা ম্যাগনিফিকা (Drosera magnifica) আরেকটি গাছ আবিষ্কৃত হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে, এই উদ্ভিদ প্রথম দেখা গিয়েছিল ফেসবুকে। নতুন প্রজাতির উদ্ভিত খুঁজে পাওয়া এবং নামকরনে চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিলের উদ্ভিদবিদদের সম্ভাবনা বেশি। কিউ গবেষকরা উদ্ভিদের জরিপের পাশাপাশি তাদের বিলুপ্তি বা বিনাশের সাম্ভাব্য অনেকগুলো কারণও চিহ্নিত করেছেন। তারা সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, বোন জঙ্গল উজাড় করে মানুষের শহরমুখী আচরণে অরণ্য এবং ম্যানগ্রোভ বোনের বিলুপ্তি হওয়ায় অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে।

পোকামাকড়ের সংক্রমণ এবং রোগব্যাধিও এই বিলুপ্তির একটা বড় কারণ। গবেষকরা দেখেছেন উদ্ভিদের উপর আক্রমণকারী প্রাণী প্রজাতি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে বড় ভূমিকা রাখে। উদ্ভিদের প্রজাতি বিনাশে এদের ভূমিকা মারাত্মক। পোকামাকড় রুখতে এবং উদ্ভিদ রক্ষা করতে বিশ্বের মোট অর্থনীতির ৫ শতাংশ ব্যয় হয়। সংরক্ষণকারীরা বিশ্বজুড়ে গাছের জন্য ক্ষতিকর ৪ হাজার ৯শ’ ৭৯টি ক্ষতিকর পোকামাকড় চিহ্নিত করেছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পৃথিবীর ১০ শতাংশ জায়গায় ছড়িয়ে থাকা উদ্ভিদ প্রজাতি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খুব বেশি মাত্রায় সম্পর্কিত। যদিও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পরিষ্কার নয়। কিউ রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের এই বৈশ্বিক উদ্ভিদ প্রজাতি জরিপ এখন থেকে প্রতি বছর প্রকাশিত হবে।

Print
2020 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About admin

Close