ঝিনাইদহে ৬ মাসে ৩ টার্গেট কিলিং, আতঙ্কে ভিন্ন মতাবলম্বীরা

এক্সপ্রেস ডেস্ক: মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তিনটি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের ভিন্ন মতাবলম্বীদের মাঝে। ভারতীয় হাইকমিশন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে তারা আতঙ্কের কথা খোলাখুলি বললেনও। দাবি করলেন নিরাপত্তার। ঝিনাইদহে টার্গেট কিলিংয়ের সর্বশেষ শিকার হিন্দু বৃদ্ধ পুরোহিত আনন্দগোপাল গাঙ্গুলী। মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের খড়াসিং ও সোনাইখালীর মাঠের মধ্যে মহিষা ভাগাড় নামক স্থানে তাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা সোনাইখালী মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন। এর আগে শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) ও ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান হওয়া জমির উদ্দীন খাজা (৬৫) নামে দুই ব্যক্তিকে একই কায়দায় খুন করা হয়। তিনটি হত্যাকা-েরই দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। পুরোহিত আনন্দগোপাল খুনের একদিন পর বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ভারতীয় হাইকমিশনের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। পরিদর্শনে আসা হাইকমিশন প্রতিনিধি দলের কাছে চরম আতঙ্কের কথা জানান গাঙ্গুলীর পরিবার সদস্যরা। নিহতের ছোট ভাই গোবিন্দগোপাল গাঙ্গুলী, স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলী, ছেলে সিন্ধু গাঙ্গুলী, মেয়ে মিনা গাঙ্গুলী, অর্চনা গাঙ্গুলী, বড় ছেলের স্ত্রী লতা গাঙ্গুলী, ছোট ছেলের স্ত্রী শিলা গাঙ্গুলীসহ পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাদের নিরাপত্তায় সরকার যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, সে ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন।  তারা জানান, চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে গাঙ্গুলী পরিবারের। প্রশাসনের আশ্বাসে তাদের ভয় কাটছে না।  এসময় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন।  ভারতীয় হাইকমিশনের দুই কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের কথা বলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত সেন দিপু ও ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবিরকুমার সমাদ্দার।  ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘দেশে আতঙ্ক ছড়াতেই আইএস-এর নামে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। যদিও ঘটনার সঙ্গে আইএস-এর কোনো যোগসূত্র নেই। খুনিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ তবে তিনি এও বলেন, ‘এ হত্যার সঠিক কোনো কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।’ অন্যদিকে, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত সেন দিপু বলেন, ‘পুরোহিত হত্যার বিচার না পেলে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেব।’ এদিকে পুরোহিত আনন্দ গোপাল হত্যার ২৭ ঘন্টা পার হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহতের বড় ছেলে অরুণ গাঙ্গুলী সুনির্দিষ্ট কাউকে অভিযুক্ত না করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এর আগে গত ১৪ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিয়া মুসলিম আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) নামে এক হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিন রাত দশটার দিকে কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের কৃষি অফিসপাড়ায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক কালীগঞ্জ উপজেলার গান্না সড়কের কৃষি অফিসপাড়ার মৃত হাশেম আলী খানের ছেলে। রাজ্জাক হত্যার পর ওই রাতেই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস ‘দায় স্বীকার’ করে বার্তা দেয়। আইএস দাবি করে, নিহত আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একজন প্রথম শ্রেণির শিয়া ধর্ম প্রচারক। এরও আগে গত ৭ জানুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের বেলেখাল বাজারে জমির উদ্দীন খাজা (৬৫) নামে এক হোমিও চিকিৎসককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর আইএস হত্যার দায় স্বীকার করে একটি বার্তা প্রকাশ করে। জমির উদ্দীন ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। নিহত জমির উদ্দীন খাজা কালুহাটি গ্রামের সুরত আলীর ছেলে।

Print
1145 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close