যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট

এক্সপ্রেস ডেস্ক:  যশোর জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।  দীর্ঘদিন ধরে প্রায় এক হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে স্কুলগুলোতে। ৩৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক । বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৫৮৩টি। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে সময় বেশি দিতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলায় মোট এক হাজার ২৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এ সব বিদ্যালয়ে মোট ৯২৩টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।  সদর উপজেলায় মোট ১৫০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ৪৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ১০৪টি।  শার্শা উপজেলায় মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৮৮। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ২৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ ৬২টি।  মণিরামপুরে মোট ১৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ৭২টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৭৪টি।  বাঘারপাড়া উপজেলায় মোট ১০১টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ৩৩টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬৮টি।  ঝিকরগাছা উপজেলায় মোট শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৮৩টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ২৫টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৫৮টি। চৌগাছা উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ৩০টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৭৬টি পদ শূন্য রয়েছে। কেশবপুর উপজেলায় মোট ১৩০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ৩৬টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৯৪টি। অভয়নগর উপজেলায় শূন্য পদের সংখ্যা ৭৫। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ৩২টি এবং সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৩টি। যে সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সেখানে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। কেশবপুর উপজেলার রঘুরামপুর, হাড়িয়াঘোপ, প্রতাপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে। যেখানে দরকার ৫-৬ জন শিক্ষক। শিক্ষকরা বলছেন, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ সময় একজন শিক্ষককে একসঙ্গে তিনটি শ্রেণিতে পড়াতে হয়। এতে করে ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে না।  এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সহকারী শিক্ষকেরা পড়ান। একজন শিক্ষকের পক্ষে আটটি ক্লাসে হাজির হয়ে সঠিকভাবে পাঠদান কোনো মতেই সম্ভব নয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’ দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি। মুখোমুখি হলে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপসকুমার অধিকারী প্রধান শিক্ষকের অভাবে স্কুলগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়াও উচ্চ আদালতে মামলার কারণে সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের অনেক পদ শূন্য থেকে যাচ্ছে।’ তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদী সরকারের এই কর্মকর্তা।

Print
821 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close