অভয়নগর হাসপাতালের তিন ডাক্তার বসেন যশোর হাসপাতালে

এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারজন ডাক্তার বসেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে। আর একজন বসেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তারা কর্তৃপক্ষের আদেশের পরও নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অভয়নগর উপজেলা সদর নওয়াপাড়ায় অবস্থিত। এটি দেশের অন্যতম শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যশহর। এখানে স্থানীয় দুই লাখ ৬৪ হাজার ও বহিরাগতসহ প্রায় তিন লাখ মানুষ বসবাস করেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চিকিৎসাকেন্দ্রে দশজন কনসালটেন্টসহ ২৯ জন ডাক্তার থাকার কথা। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ২৬ জন ডাক্তার। তার মধ্যে পাঁচজন আছেন কথিত প্রেষণে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার কানিজ ফতেমা, সেলিম রেজা, হালিমাতুজ্জোহরা ও আব্দুল্লা আল মামুন। আর চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে রয়েছেন গাইনি কনসালটেন্ট নার্গিস আক্তার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যশোর জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত থাকা আব্দুল্লাহ আল মামুন বৈধভাবে প্রেষণে আছেন। আর বাকি তিনজনের প্রেষণের বৈধতা নেই। তারা শাসক দলের এক নেতার প্রশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সুবিধার জন্য জেলা সদরে অবস্থান করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আহম্মেদ বদরুদ্দোজা বলেন, ‘আমি প্রেষণে থাকা ডাক্তারদের নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য বার বার চিঠি দিচ্ছি। কিন্তু তারা আসছেন না।’ তিনি বলেন, ‘একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের আশ্রয়ে তিন ডাক্তার অবৈধভাবে জেলা সদরে অবস্থিত জেনারেল হাসপাতালে কাজ করছেন।’ এদিকে, দশজন কনসালটেন্টের মধ্যে মাত্র তিনজন অভয়নগরে কর্মরত আছেন। এরা হলেন শিশু বিভাগে ডা. খালেকুজ্জামান, নাক, কান ও গলা বিভাগে ডা. রাশেদ আলী মোড়ল এবং চর্ম ও যৌন বিভাগে ডা. ওয়াজেদ আলী মৃধা। আর গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট প্রেষণে চৌগাছা উপজেলায় আছেন। এছাড়া অন্যান্য কনসালটেন্টের মধ্যে পদ শূন্য রয়েছে, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, অ্যানেসথেসিয়া, চক্ষু, অর্থোপেডিক ও সার্জারি। এ সব পদগুলোতে একজন করে সাধারণ মেডিকেল অফিসার দিয়ে পূরণ করে দেখানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কনসালটেন্ট না থাকায় রেগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একটু জটিল রোগী এলে তাদের খুলনা ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তাছাড়া বহির্বিভাগে ডাক্তার কম থাকায় রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।  শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগী উপজেলার পায়রা গ্রামের নূর উদ্দিন (৪০) ও মণিরামপুর উপজেলার পাচাকড়ি গ্রামের হেলাল উদ্দিন (২২) বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো ৩০ জনের পরে সিরিয়াল পাবো। এতো সময় দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তাই একটু বসে জিরিয়ে নিচ্ছি।’

Print
916 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close