জামায়াত নিষিদ্ধে টালবাহানা চলবে না : যশোরে শাহরিয়ার কবির

এক্সপ্রেস ডেস্ক: সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন ও গুপ্তহত্যা প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের ভূমিকা বিষয়ে যশোরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে যশোর সার্কিট হাউসে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জেলা শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জামায়াত নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ‘আপনারা বলছেন জামায়াত নিষিদ্ধ করা যাবে না। আপনারা আপনাদের বাবাদের অস্বীকার করছেন।

আপনাদের বাবারা যে সংবিধান প্রণয়ন করেছেন সেই সংবিধান অস্বীকার করছেন। ৭২ সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ৭২ সংবিধানে বঙ্গবন্ধু জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছেন। তবে কী তিনি ভুল করেছিলেন?। পরিস্কার করে এ বিষয়ে বলতে হবে।’যশোর জেলা গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক কাজী আবদুস শহীদ লালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় শাহরিয়ার কবির বলেন, জামায়ত নিষিদ্ধ করা যাবে না, এই টালবাহানা শুনতে চায় না। আমেরিকা, সৌদী আরবসহ ইসলামী উম্মা জামায়াত নিষিদ্ধ চায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও তো অনেকে চায় না। অনেক চাপ উপেক্ষা করে বিচার চলছে। জামায়াত সন্ত্রাসী দল। জামায়াত নিষিদ্ধ করতে আদালতে যাওয়া লাগে না। জেএমবি, আনসারুল্লা বাংলা টিমের মত সন্ত্রাসী দলগুলোকে যেভাবে বন্ধ করা হয়েছে সেই ভাবেই জামায়ত নিষিদ্ধ করা যাবে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের মত বাংলাদেশ হয়ে যাবে, তেমনটি আমরা চাই না। পাকিস্তানের সমমানের বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, যে জুতো আমরা ছুঁড়ে দিয়েছি, সেটিতে কেন তোমরা আটকে আছো। বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। আমরা মুসলিম বিশ্বকে কি বার্তা দিচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে মুসলিম দেশ বলছে, আমরা প্রতিবাদ করছি না। আমরা বলছি না ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গী দমনে জিরো টলারেন্স। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু তার চারপাশে যারা আছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা  জিরো টলারেন্স মানছে না। সারাদেশে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিন হাজারের বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু একজনও হেফাজত কর্মী আটক করা হয়নি। যারা দেশে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মানিক বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধেও দল। আর বিএনপি জামায়াত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল। আওয়ামী লীগও যদি সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়। তবে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য থাকবে না। আওয়ামী লীগের পবিত্রতা নষ্ট হলে। তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরাও চাচ্ছেন আওয়ামী লীগকে সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছেন। আওয়ামী লীগেও সর্ষের মধ্যে ভূত রয়েছে। তারা সম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আজ যদি আওয়ামী লীগের পতন ঘটে, বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। শেখ হাসিনার আন্তরিকতার অভাব নেই। তবে তার আশে পাশে লোকজন চায় না।  বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মানিক বলেন, দেশটা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার। সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সবাইকে অধিকার নিয়ে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তরা বলেছেন, বর্তমানে গণবিরোধী রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে। গণবিরোধী রাজনীতি কখনো সুফল বয়ে আনতে পারে না। সরকারের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি, নিরাপত্তা দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সেটি পরিস্কার করে বলতে হবে। রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, নাকি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র সেটি পরিস্কার করে কিছু বলছে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শুভংকরের ফাঁকিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আতংকে রয়েছে। ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, নির্যাতনে চলছে।

মতনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার রায়, সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দৌলা, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দত্ত, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য,  সহকারী অধ্যাপক গোপী কান্ত সরকার, জেলা জাতীয় যুব জোটের সভাপতি স্বপন ভদ্র প্রমুখ।

Print
1028 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close