মণিরামপুরে বিদ্যালয় ভবন কাঁটা দিয়ে ঘিরে রেখেছে দূর্বৃত্তরা, দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

এক্সপ্রেস ডেস্ক: মণিরামপুরে চার দিন যাবৎ একটি বিদ্যালয় ভবন কুলের কাঁটা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে জবর দখল করে রেখেছে দূর্বৃত্তরা। এতে ওই বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ অভিভাবকরা। শীঘ্রই বিদ্যালয়টি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি। সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার ঢাকুরিয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুল ভবন ও জমি অবৈধভাবে দখল করে কুলের কাঁটা ও বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। চার দিন যাবৎ ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। এতে করে শিক্ষা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপশি মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এলাকাবাসি জানায়, বিদ্যালয়টি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৯ সালে ক্রয়কৃত ১৫ শতক জমির উপর ২০১৩ সালে ভবন নির্মান করে অত্যন্ত সুনামের সাথে নার্সারী হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় ব্রক্ষ্মপুর গ্রামের বলয় মন্ডল ও বিমল মন্ডল আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নিন্ম আদালতে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুকুলে রায় হলে তারা পুনরায় উচ্চ আদালতে আপিল করেন। সেখানেও একই রায় বহাল থাকে। পরবর্তীতে তারা হাইকোর্ট একটি আপিল করে যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে ওই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গত শনিবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুর্গাপদ সিংহ, ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ আলী, সাধারন সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম সাজ্জাদ, ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকসহ গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্কুল প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ন বৈঠক চলছিলো। এসময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জনৈক আহাদ আলীর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী জোরপূর্বক স্কুলটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং গোটা স্কুল ক্যাম্পাস কুল গাছের কাঁটা ও বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা স্কুলের অধ্যক্ষ হাদীউজ্জামানকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে এবং বিদ্যালয়ের চেয়ার-বেঞ্চ বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা ইউপি চেয়ারম্যান দূর্গাপদ সিংহ জানান, ওই গ্রামের মৃত রামপদ মন্ডলের ওয়ারেশ রাধু দাসী ওরফে বুচি সহ তার চার কন্যা ওই জমির প্রকৃত মালিক বলে আমরা জেনে আসছি, নিন্ম আলাদতও সেই রায় দেন। পরে বলয় মন্ডল ও বিমল মন্ডল নামের দুই ব্যাক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বলে শুনেছি। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র আমির সাজ্জাত অর্ক’র পিতা আমীর হামজা জিকো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আইনের মাধ্যমে স্কুলের জমিটি যে পক্ষই পায় না কেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। আমার ছেলে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া। এখন বছরের মাঝ সমযে এসে এমন ঘটনায় আমরা হতবাক ও উদ্বিগ্ন।’ স্থানীয় আব্দুল হামিদ জানান, ‘স্কুলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুনামের সাথে চলছে। সন্ত্রাসীরা এভাবে স্কুলটি দখলে নেওয়াটা অযৌক্তিক হয়েছে, তাদের উচিৎ ছিলো বসাবসির মাধ্যমে সিদ্ধান্তে আসা।’ এছাড়াও উপস্থিত অভিভাবক রাবেয়া খাতুন, শাহীদা বেগম, অঞ্জু রায়, জেসমিন আরা ও শিরিনা পারভীনসহ অনেকেই এঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্তসহ শীঘ্রই বিদ্যালয়টি সচল করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হাদীউজ্জামান জানান, ‘অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছি। সেই প্রতিষ্ঠানেই সন্ত্রাসীরা আমাকে লাঞ্চিত করে স্কুলটি দখল করে নিয়েছে এটি আমার জন্য বড়ই লজ্জার। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি।’ মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ জানান ‘বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাদীউজ্জামানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

Print
920 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close