মাগুরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নালিম চাষ

এক্সপ্রেস ডেস্ক: লাভজনক ফসল হিসেবে মাগুরার কৃষকদের কাছে বাঙ্গি জাতীয় ফল ‘নালিম’ চাষ জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে। মাত্র ৯০ দিনে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়ায় অনেক কৃষক নালিম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। যে কারণে ক্রমে বাড়ছে এর বাণিজ্যিক আবাদ। মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, হাজীপুর, রাঘবদাইড় ইউনিয়নের নড়িহাটি, ইছাখাদা, শিবরামপুর, বীরপুর, মির্জাপুরসহ অন্তত দশটি গ্রাম এখন নালিম চাষের জন্য সুপরিচিত হয়ে উঠেছে । ইছাখাদার গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, প্রতি এক বিঘা জমিতে নালিম চাষে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার নালিম। এই আবাদে সার বা অন্য কৃষি উপকরণ প্রয়োজন হয় না। প্রতিবছর মার্চ, এপ্রিল মাসে নালিম আবাদ শুরু করতে হয়। জুন-জুলাই মাসে নালিম ফল পাকতে শুরু করে। মির্জাপুর গ্রামের কৃষক ওমর আলী জানান, এবছর তিনি চার বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছেন। এক লাখ টাকার বেশি মুনাফা হবে বলে আশা করছেন এই কৃষক। নড়িহাটির আশরাফুল ইসলাম জানান, এটি লিচু ও পেয়ারাবাগানের সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। আবাদ পদ্ধতি বাঙ্গির মতোই। পাঁচ বিঘা জমিতে নালিম চাষে খরচ বাদে এবছর এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মুনাফা হবে বলে আশা এই চাষির। চাষিরা জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা মাঠ থেকেই নালিম সংগ্রহ করে নিয়ে যান। নালিম ব্যবসায়ী বদর উদ্দিন ও গোলাম মোস্তফা জানান, রমজানে নালিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি নালিম পাইকারি ৭-৮ টাকা ও খুচরা ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, নালিম ফলটি চিনিমুক্ত, স্বাদ বাঙ্গির মতোই। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পুষ্টি সহায়ক। বর্তমানে নালিমের ভরা মৌসুম চলছে। সদর উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেত থেকে প্রতিদিন ২-৩ ট্রাক নালিম রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চালান হচ্ছে। হাজিপুর, হাজরাপুর ও রাঘরদাইড় ইউনিয়নে ফাঁকা জমির পাশাপাশি লিচু, আম, পেয়ারাবাগানে সাথী ফসল হিসেবে নালিম চাষ হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

Print
1255 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close