১৮ বছরেও ভবন হয়নি কাজীরহাট কলেজে

এক্সপ্রেস ডেস্ক: কলারোয়ার কাজীরহাট কলেজটি ১৮ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়ালেও আজও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। শিক্ষার্থীরা এখনো টিনশেড কক্ষে শিক্ষা নিচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। কলেজটির সভাপতি ও বর্তমান কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন ও তার সহযোগীদের উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে কাজীরহাট বাজার-সংলগ্ন এলাকায় কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উপজেলার কেরালকাতা, হেলাতলা ও কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝখানে পাঁচ বিঘা জমির ওপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। ১৯৯৯ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কলেজটি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অনুমতি পায় এবং ২০০১ সালে স্বীকৃতি পায়। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্তরা জানান, স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রচেষ্টায় ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর ২০১১ সালে কলেজটি ডিগ্রি অধিভুক্ত ও ২০১৫ সালে বিএ (অনার্স) র্কোস চালু হয়। বর্তমান কলেজটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫১০; শিক্ষক কর্মচারী ৩৬ জন। ২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৬ জন ফার্স্ট ডিভিশন এবং ৬১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। কলেজটি উপজেলার নয়টি কলেজের মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তবে সমস্যার দিক দিয়ে কাজীরহাট কলেজটি উপজেলায় শীর্ষে। অবকাঠামোর অবস্থা নিতান্ত করুণ। আজ পর্যন্ত কলেজটিতে সরকারি অর্থায়নে কোনো ভবন হয়নি। আধুনিক ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় কষ্ট করে। কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে টিনশেডের ঘর নির্মাণ করে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে টিনশেডটির অবস্থা এতই করুণ যে, গরম ও বর্ষাকালে পাঠদান কিংবা পাঠগ্রহণ প্রায় অসম্ভব। ঝুঁকিপূর্ণ তো রয়েছেই। সরেজমিন দেখা যায়, টিন ফুটো হয়ে বর্ষার পানি পড়ছে, শিক্ষার্থীদের বই খাতা ভিজে যাচ্ছে। যে কোনে সময় টিনশেড ভেঙে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়ার আশঙ্কাও প্রবল। নিরাপত্তাগত কারণে অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের কলেজের আসা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
জরাজীর্ণ ভবনের প্রভাব পড়েছে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রেও। ভালো ভৌত অবোকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীরা এই কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী হচ্ছে না। আগামী ১০ জুলাই চলতি শিক্ষাবর্ষে ক্লাস শুরু হবে। কলেজটি অধ্যক্ষ জানালেন, ইতিমধ্যে নতুন ভবন চেয়ে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সাড়া মেলেনি। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এস এম সহিদুল আলম জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষকের সমাবেশ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। প্রতি সপ্তাহে স্ব-স্ব বিষয়ের শিক্ষক টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নেন এবং প্রতি মাসে প্রত্যেক বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের মাসিক মূল্যায়ণ পরীক্ষা নেওয়া হয়। যার ফলে পাবলিক পরীক্ষায় কলেজটির ফলাফল ভালো। তিনি বলেন, ‘কলেজটিতে একটি নতুন ভবন, একটি শহীদ মিনার, একটি বিজ্ঞান ভবন, একটি কলেজ হোস্টেল ও একটি গেট নির্মাণ জরুরি। অবকাঠামোগত এই উন্নয়ন হলে প্রতিষ্ঠানটিকে আদর্শ কলেজে উন্নীত করার সব সম্ভাবনা রয়েছে।’

Print
1032 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close