দুই মাসের মধ্যে আর ভিক্ষা করা লাগবে না

ইমরান হোসেন : গত ১৫ জুন বুধবার সকালে রাফ এইচটিএন ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার এর বাহাদুরপুরস্থ নিজস্ব ক্যাম্পাসে রাফ এর অর্থায়নে হেল্প দ্যা নিডি চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট যশোর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০০টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে রমজান মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

২০০টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার হচ্ছে সদর উপজেলাধীন ১২নং ফতেপুর ইউনিয়নের দাইতলা গ্রামের বগা-বগির পরিবার। নিঃস্বন্তান এ পরিবারের সংসার চলে ভিক্ষাবৃত্তি ও চাঁদপাড়া পুলিশ ক্যাম্প এর সহযোগিতায়। পৃথিবীতে তারা দুজন খুবই অসহায় ও দরিদ্র। তবে তাদের এ অভাবের সংসারেও দুজনের ভালবাসা দেখে গ্রামের অনেকেই ঈর্ষান্বিত হয়।

রাফ এইচটিএন এর খাদ্য সামগ্রী হাতে পেয়ে তারা আনন্দে মেতে ওঠে। এত জিনিস যেন তারা কখনও একসাথে পায়নি। এসমস্ত খাদ্য সামগ্রী পেয়ে তারা বলে ওঠে আমাদের যা দেওয়া হয়েছে অন্তত দুইমাস আমাদের ভিক্ষা করা লাগবে না, এতেই দুজনের ভালোভাবে কেটে যাবে। তারা অনবরত রাফ ও এইচটিএন যশোর এর কর্মকর্তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকে যেন তারা তাদের এ সহযোগিতা অব্যহত রাখতে পারে।

তবে খাবার সামগ্রী নিয়ে ঘরে ঢোকার সময়ই যেন তাদের সব আনন্দ বিলীন হয়ে যায়। তারা দুজনেই একে অপরের সাথে বলতে থাকে এখন ঝড় বৃষ্টির সময় ঘরে সব জায়গায় পানি পড়ে এত খাবার ঘরে রাখবো পানি হলেইতে সব নষ্ট হয়ে যাবে। এসব বলতে বলতে কেঁদে ফেলে তারা। তাঁদের চোখের পানি যেন আর বন্ধ হয় না। চোখের জল দেখে ছুটে চলে আসে পাশের মানুষেরা। তাদের দুজনকে সান্তনা দিতে থাকে সকলে। বলতে থাকে আল্লাহ তোমাদের জন্য আজ রাফ এইচটিএন এর মাধ্যমে এই খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছে হয়ত তোমাদের ঘরও করে দিতে পারে।

DSC_1694তারা দুজনই আবার ছুটে এসে বলে রাফ এইচটিএনকে বলনা আমাদের একটি ঘর করে দিতে তাহলে আর আমাদের এই ঝড় বৃষ্টিতে কষ্ট পেতে হবে না। আমরা দুজনে ছাগল ও বিড়াল নিয়ে এই জরাজীর্ণ ঘরের ভেতর থাকতে থাকতে অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছি। বৃষ্টি হলেই আমরা ভিজে যায়। ঝড় হলে ঘরের চাল উড়ে যায় আবার খুটে এনে চাপা দিয়ে রাখি। আর ঘরের ভেতরটাতো ছাগলের বিষ্ঠার কারণে স্যাতসেতে ও দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। তারা বিলাপ বকতে থাকে আমরা ভিক্ষা করে ও গরু বিক্রি করে ঘর করার জন্য কিছু টাকা অন্যের নিকট জমিয়েছিলাম সেই টাকা পেলে আমাদের এরকম কষ্ট করতে হতো না। এসময় তাদের কথায় তাল মিলিয়ে এলাকার অনেকেই বলে ওঠে তোমাদের টাকা যদি আজ তোমাদের কাছে থাকতো তাহলেতো তোমাদের আজ অন্যের সহযোগিতা লাগতোনা।

বগা-বগি আবার বলে রাফ এইচটিএন যদি আমাদের দিকে আর একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং আমাদের একটু মাথা গোজার ঠাঁই এর ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের শেষ বয়সে আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হবে না। এ বিষয়ে রাফ এইচটিএন যশোর এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নুরুজ্জামান কে অবহিত করলে তিনি জানান, বগা-বগির ঘরের অবস্থা আমরা দেখেছি, সেখানে সুস্থ্য মানুষ বসবাস করতে পারে না, আমরা শীঘ্রই তার ঘর নির্মাণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছি।

চাঁদপাড়া পুলিশ ফাড়ির টু আই সি মুস্তাফিজুর রহমান সবসময় তাদের বিপদে আপদে ছুটে আসে এবং তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে। যার কারণে বগা-বগি তাকে আব্বা বলে ডাকে। তাছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান অত্র এলাকার অসহায় ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সকলে তাকে ভালবাসে। এছাড়া জানা যায় তিনি যেসকল কর্মস্থানে যোগদান করেছেন সে এলাকার হত দরিদ্রদের পাশে থেকে তিনি সর্বদা তাদের সহযোগিতা করেছেন। এজন্য তার কর্মস্থল গুলোতে রয়েছে বিশেষ সুনাম।

Print
932 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close