ট্রেন দুর্ঘটনা : কেশবপুরে চলছে শোকের মাতম

এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোরের মানিকদিহি জামতলা রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে নিহত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি কেশবপুরের তিন গ্রামে। একজনের বাড়ি সদর উপজেলায়। এরমধ্যে একই পরিবারের তিন জন। কেশবপুরের ওই তিন গ্রাম ও যশোর সদরের এক গ্রামসহ আশপাশ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম। সমবেদনা জানাতে এলাকার শত শত মানুষ ভিড় করছেন নিহতদের বাড়িতে। সবাই অশ্রুসিক্ত।

কেশবপুরের নিহত ৪ জন হলেন, কেশবপুরের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমতা ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, খুলনাঞ্চল পত্রিকার সাংবাদিক ও পাচারইল গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে রেজাউল করিম রাজু (৩০), তার গাড়ি চালক বাইশা গ্রামের আব্দুল হাকিম (৩২) এবং একই উপজেলার খতিয়াখালি গ্রামের জয়া রাণী দাস (৫৫) ও তার ছেলে সুব্রত দাসের পুত্র বাঁধন দাস (১৪)। এ দুর্ঘটনায় যশোর সদর উপজেলার তীরেরহাট গ্রামের নিত্যরঞ্জন দাসের ছেলে স্কুলছাত্র চয়ন দাসও (১২) নিহত হয়। চয়ন হচ্ছে জয়া রাণীর মেয়ের ছেলে।
তীরেরহাট গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত চয়ন দাসের বাবা নিত্যরঞ্জন দাস ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর বিলাপ করছেন, ‘সোনার বাবা আমার, আমাই ফেলে চলে গেলি। আমি তোরে ছাড়া থাকবো কী করে’। কেশবপুরের মঙ্গলকোট ইউনিয়নের পাচাঁরই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মৃত আব্দুল কাদেরের একমাত্র ছেলে রেজাউল করিম রাজু। তিনি কেশবপুর শহরের সমতা ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। ছ্টোবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন সমাজসেবা করার। তাই মাত্র ২৮ বছর বয়সেই এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল পেয়ে প্রায় ১০০ বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় ওই প্রাইভেটকারেই তিনি যশোরের পথে রওনা দেন। সংসারের একমাত্র আয়ক্ষম ছেলেকে হারিয়ে রাজুর মা পাগলপ্রায়। রাজুর দুই বোন বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। মাত্র আঠার দিন আগে (৫ জুন) বিয়ে করে সুখের সংসার পেতেছিলেন প্রাইভেটকারের চালক কেশবপুরের বায়সা গ্রামের শামছুর রহমানের ছেলে আব্দুল হাকিম। কেশবপুর শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে বায়সা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য বিবাহিত নববধূ ফাহিমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না, চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছে। হাকিমের মা ছালমা বেগম চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বের হতে বিলম্ব হওয়ায় মোবাইল ফোনে গাড়ির মালিক এনজিও পরিচালক রেজাউল করিম তাড়া দিলে সকালে ভাত না খেয়েই তার আদরের মানিক হাকিম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
৫ ভাই বোনের মধ্যে সবার প্রিয় ছোট সন্তান আব্দুল হাকিমের মৃত্যুতে চিৎকার করে বিলাপ করছেন তার পিতা শামছুর রহমান। নিহত কেশবপুর মধুশিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী বাঁধন দাস ও তার দাদি (দিদা) জয়া রাণী দাসের বাড়ি কেশবপুর শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে খতিয়াখালি গ্রামে। তাদের বাড়িতে ওই গ্রাম ও আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ পরিবারটিকে শান্ত¦না দিতে এসেছেন। কিন্তু সন্তান হারানো বাঁধনের মা বাসন্তি রাণী দাসের আর্তনাদ গোটা পরিবেশকে শোকে মূহ্যমান করে তুলেছে।
Print
824 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close