বিচার বিভাগকে শেষ করে দিয়েছে সরকার

এক্সপ্রেস ডেস্ক: দলীয়করণ করে বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে শেষ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পবিত্র রমজানের ১৭তম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ইমান্যুয়েলস কনভেনশন হলে ২০ দলীয় জোট শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন খালেদা। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এতে সভাপতিত্ব করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিচার বিভাগে সকলের ন্যায় বিচার পাওয়ার কথা থাকলেও দেখা যাচ্ছে, এখানে সকলের জন্য সমান বিচার নেই। আজকে আওয়ামী লীগের জন্য এক রকমের বিচার, আর বিএনপিসহ বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকমের বিচার। বিচার বিভাগে কোনো ন্যায় বিচার পায় না বিএনপি। এই সরকার দলীয়করণ করে বিচার বিভাগকে শেষ করে দিয়েছে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘যত বড় অপরাধই করুক না কেন, আওয়ামী লীগের কোনো লোককে ধরা হলে কয়েকদিন পরেই সে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। আর বিএনপির লোক আদালত থেকে জামিন পেলেও একটির পর একটি নতুন মামলা দিয়ে তাদের জেলে আটকিয়ে রাখা হয়। এমনকি জামিন পেলেও জেলগেট থেকে নতুন মামলা দিয়ে তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। এই হলো দেশের অবস্থা।’

তিনি আরো বলেন, ‘জেলখানায় চিকিৎসা প্রাপ্য হলেও তাদের চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হয় না। বিএনপিসহ বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ হলে তারা কোনো চিকিৎসা পাবে না। গুরুতর অসুস্থ হলেও তাদের হাসপাতালে নেয়া হয় না। তাহলে তারা বাঁচবে কী করে? এভাবে বিএনপির বেশ কিছু লোক জেলখানায় মারাও গেছে।’ ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একদিকে গুম-খুন করছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের জেলখানায় নিয়ে দিনের পর দিন আটকে রেখে তাদের নিঃস্ব ও শেষ করে দিচ্ছে। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না।’

গণগ্রেপ্তারের নামে সারা দেশে বিএনপি, অন্য বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চলছে এমন দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পুলিশের অত্যাচারে এ পবিত্র রমজানে মাসেও বিএনপির কেউ নিজ ঘরে শান্তিতে সেহেরি পর্যন্ত করতে পারে না। ঈদের আগে তাদের (পুলিশ) ব্যবসা চলছে, চলছে গ্রেপ্তার বাণিজ্য। তারা সবই পাচ্ছে। তাদের ভালো গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে। তারা দুদিক থেকেই পাচ্ছে। তাদের খুশি রাখতে সরকার থেকেও দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তারা বাণিজ্য করেও ব্যাপক অর্থ উপার্জন করছে।

এ সময় দেশব্যাপি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ও পুলিশকে দায়ী করেন বিএনপি প্রধান। খালেদা জিয়া ইফতারের পূর্বে টেবিল ঘুরে ঘুরে আগত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ইফতার মাহফিলে এসে পৌঁছান তিনি। মূল মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন- লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফারুক রহমান, এমদাদুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রাজু, মাহবুবুর রহমান খালেদ, আলাউদ্দিন আলী; যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, শামসুদ্দিন পারভেজ, অধ্যাপক মহসিন ভূঁইয়া, মাহমুদ খান; জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. সেলিম উদ্দিন, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান,  জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, পিপলস লীগের সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, বিজেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, সাম্যবাদী দলের পলিট ব্যুরোর সদস্য হানিফুল কবির, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

ইফতারে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, আব্দুল মান্নান, এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ। ইফতার মাহফিলে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাওলানা শামীম সাঈদী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. সেলিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. মশিউল আলম,  জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বিএমএল’র মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, যুগ্ম মহাসচিব মো. ফরিদউদ্দিন প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ডেপুটি হাই কমিশনার টিম বোলোটনিক অফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ। ইফতারে লেবার পার্টির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম মহাসচিব হিন্দুরত্ন রামকৃষ্ণ সাহা, শামীমা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আহসান হাবিব, অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রহমান খোকন প্রমুখ।

Print
788 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close