যশোরে পুলিশি নির্যাতনে ভারসাম্য হারাতে বসেছে দশম শ্রেনীর ছাত্র রহিত

এক্সপ্রেস ডেস্ক: পুলিশি নির্যাতনে মানষিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে উপশহর বাদশাহ ফয়সাল ইসলামি ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেনীর ছাত্র আইনুল হক রহিত। এক জামায়াত নেতার কথিত মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে উপশহর ফাঁড়ি পুলিশ রহিতকে ধরে নিয়ে যেয়ে অমানুবিক নির্যাতন করে। ঝিকরগাছা ইসলামি ব্যাংকে ওই জামায়াত নেতা চাকুরি করে। পুলিশি নির্যাতনের কারণে রহিতের সামনে এস,এস,সি পরীক্ষা দেয়াও প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে রহিতের পরিবারও আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

রহিতের পরিবার ও এলাকাবাসির অভিযোগে জানা যায়, উপশহর ডি-ব্লকের ভাড়াটিয়া জামায়াত নেতা নাজিম উদ্দিনের কথিত মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগে ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে ৮ জুন দুপুরে উপশহর ফাঁড়ির দারোগা এস আই বিপ্লব রহিতকে উপশহর ১নং সেক্টরের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। অথচ ওই ভিডিও ফুটেজের সাথে রহিতের কোন মিল নেই। এছাড়া জামায়াত নেতা নাজিম যে বাড়ি ভাড়া থাকেন সে বাড়িতে তার মোটরসাইকেলটি ছিল না। নাজিমের ভাড়া বাড়ির পশ্চিম পাশের জাহাঙ্গীরের বাড়িতে মোটর সাইকেলটি রাখা ছিল। এরপর ৮ জুন রাতে কোতয়ালি থানায় রেখে রহিতের উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। জামায়াত নেতার নির্দেশে উপশহর ফাঁড়ির এস আই বিপ্লব নাবালক স্কুল ছাত্র রহিতের (১৬) বুকের উপর উঠে বুট জুতা দিয়ে পাড়ায়। এছাড়াও তাকে মোটা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম প্রহর করা হয়। পুলিশি নির্যাতনে রহিতের শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়।

Rohitরহিতের মা জুলি বেগম জানান, এস আই বিপ্লব রহিতকে ধরে যেদিন থানায় নিয়ে যেয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায় সেদিন সে রোজা ছিল। কিন্তু নির্দয় পুলিশের তাতেও মন গলেনি। পরের দিন ৯ জুন ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রহিতকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর এই টাকার লেনদেন হয় শহরের দড়াটানার বনফুল মিষ্টির দোকানে। পরে ১৮জুন ডিবি পুলিশের এক দারোগাও রহিতকে এসপি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানেও ভিডিও ফুটেজ মিলিয়ে দেখা যায় রহিতের সাথে মোটর সাইকেল চোরদের কোন মিল নেই। এসপি অফিস থেকে রহিতকে ভাল ভাবেই ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানায় রহিতের পরিবার।
২৪ জুন আবারো উপশহর ফাঁড়ির এস আই বিপ্লব ভিডিও ফুটেজ মিলানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় রহিতকে। দফায় দফায় পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনে বর্তমানে রহিত মানষিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে। বিভিন্ন সময় সে একা একা বিড় বিড় করে কি যেন বলে। আর এসব কারণে সামনে এসএসসি পরিক্ষা দেয়াও রহিতের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রহিতের পরিবারও পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনে আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রহিতের পিতা সেন্টু শহরের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালায়। তার উপর রহিতের বিষয়টি নিয়ে তিনিও প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়েছেন। একই সাথে তার কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। রহিতের পরিবারের আশংকা জামায়াত নেতা নাজিমের নির্দেশে নিরাপরাধ স্কুল পড়–য়া ছাত্র রহিতকে পুলিশ ধরে নিয়ে যেন মেরে না ফেলে।
মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় কোন মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাজিম একবার বলেন অভিযোগ করেছি। পরে আবার বলেন জিডি করেছি। গত ১৮ মে উপশহর ডি ব্লকের ভাড়া বাড়ি থেকে জামায়াত নেতা নাজিমের কথিত মোটর সাইকেল চুরি হয়।

মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে কিনা কাছে জানতে চাওয়া হলে উপশহর ফাঁড়ির দারোগা এস আই বিপ্লবের বলেন, মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলা নাম্বার জানতে চাওয়া হলে তিনি বলতে পারেননি। বলেন আমি ডিউটিতে আছি মনে নাই। রহিতের উপর নির্যাতন ও টাকা নেয়ার কথা ও এস আই বিপ্লব অস্বীকার করেন। অথচ রহিতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথোপকথন রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া সুনিদিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক এক যুবককে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

Print
1020 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close