মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিবারের ভূমিকাই বড়

এক্সপ্রেস ডেস্ক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পরিবারের ভূমিকাকেই সবচেয়ে বড় বলে মনে করেন বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম খান।  তিনি বলেন, ‘পরিবারিকভাবেই মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের সচেতন করে তোলা জরুরি।’ রোববার (২৬ জুন) বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (বিএলএফ) লেবার হলে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা জানান।

আবদুস সালাম বলেন, ‘মাদকের কুফল ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মাদকাসক্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাদকদ্রব্য পাচার এবং দেশের অভ্যন্তরে অবাধে পরিবহনের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে দেশের ভেতর নানা ভাবে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে। মাদক পাচারের সঙ্গে নানা শ্রেণির মানুষ জড়িয়ে পড়ছে।’

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, তরুণরা একটি জাতির প্রাণশক্তি এবং ভবিষ্যৎ কর্ণধার। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে তরুণদের মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে। একটি মাদকাসক্ত সমাজ গোটা জাতির পঙ্গুত্ব বরণের অন্যতম কারণ। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে শারীরিক, মানসিক ও নৈতিকভাবে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে মাদকের অবৈধ ব্যবহার এবং পাচার রোধ আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্ক্তারা আরো বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ সমাজ ও আইন বিরোধী কাজে লিপ্ত হচ্ছে। যা আমাদের সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করে। বক্তারা বলেন, মাদক গ্রহণের জন্য একাধিক ব্যক্তি একই সূঁই ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে থাকে, যার ফলে মরণব্যধি এইডস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া মাদক গ্রহণের ফলে ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগ, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে রোগ হতে পারে। মাদক গ্রহণের ফলে একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থার অবনতি তথা মানসিক রোগ হয়ে থাকে বলেও জানায় বক্তারা।

মাদকের অপব্যবহার ও পাচার রোধে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। মাদকের কুফল সম্পর্কে জানাতে স্কুল ও কলেজের পাঠ্যপুস্তকে মাদক বিষয়ক আলোচনা সংযোজনের প্রস্তাব জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে নিয়মিত সচেতনতামূল সভার আয়োজন করার প্রস্তাবও জানানো হয়।  এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে যুগপোযোগী আইনের গঠন এবং তা বাস্তবায়ন করার দাবি জানায় সংগঠনটি। মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের নিরাময়ের জন্য পর্যাপ্ত পূনর্বাসন ও চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের প্রধান নির্বাহী একেএম আশরাফ উদ্দিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. তৈয়্যেবুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার মো. আমানুল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সানজিদা আকতার ও কেরাণীগঞ্জ ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম প্রমুখ।

Print
1116 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close