ঈদ-বাজার : সাতক্ষীরায় ফুটপাতে নিম্নবিত্তদের ভিড়

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ঈদ যে এসে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে শহরের বিপণী- বিতানগুলোর দিকে তাকালে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহরের ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট বড় বিপণী-বিতান ক্রেতাদের পদচারণায় এখন মুখরিত। ঈদে পছন্দমতো পোশাক কেনার এ যেন এক প্রতিযোগিতা।
ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও সাতক্ষীরা শহরের ফুটপাতে বসেছে মৌসুমি পোশাকের দোকান। রয়েছে জুতা, মনোহারিসহ হরেক রকম পণ্যের দোকান। তবে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছেন না।
দেবহাটা থেকে সপরিবারে ঈদের বাজার করতে আসা আমিনুর রহমান জানান, ঈদ মানে নতুন জামা, নতুন কাপড়, নতুন টুপি, নতুন কিছু। নতুন জামা-কাপড় ঈদ আনন্দের পূর্ণতা এনে দেয়।
‘তাই সপরিবারে নতুন জামা-কাপড় কিনতে এসেছি।’
‘বড় বড় বিপনীবিতানে ঈদের বাজার খুবই গরম। তাই ফুটপাতের দোকানগুলো ঘুরে দেখছি। পছন্দমতো পোশাক পেলে এবং দামে পটলে ভাবছি এখান থেকে ছেলে-মেয়ের পোশাক কিনে নেব,’ বলছিলেন আমিনুর।
থানা মসজিদের সামনে ফুটপাতের দোকানি রফিকুল জানান, বছরের সব সময় ফুটপাতে কয়েকটি দোকান থাকে। ঈদের সময় আরো কিছু যোগ হয়। বছরের অন্যান্য সময় তেমন বেচাকেনা হয় না। ঈদের সময় ভালো বেচাকেনা হয়। তাই বছরের অন্য সময়ের লোকসান উসুল করতে ঈদের সময় অতিরিক্ত পোশাক তুলে দোকান সাজান তিনি।
এই দোকানি বলেন, ‘এখন প্রতিদিন কোনো না কোনো সময় বৃষ্টি হচ্ছে। দোকানে ক্রেতারা আসছে। কিন্তু বৃষ্টি নামলে ফুটপাতের দোকানে ক্রেতারা দাঁড়াতে পারে না। এতে ব্যবসায় বিঘœ ঘটছে।’
ফুটপাতের আর এক ব্যবসায়ী আরিফুল জানান, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের পোশাক তোলা হয়েছে দোকানে। অন্যবারের চেয়ে এবার আগেভাগে কেনাবেচা শুরু হয়েছে। তবে এখানে শিশুদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের মধ্যেও আবার শূন্য থেকে দশ বছর বয়সীদের পোশাকের চাহিদা বেশি। দামও সহনীয়। ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের ড্রেস।
তিনি বলেন, ‘নিতান্ত গরিব না হলে কেউ ফুটপাতের দোকানে আসতে চায় না। সাধারণত আয়ের মানুষরাই আসে আমাদের দোকানে। দামী খদ্দের আসে না। তবে এবার ঈদে কিছু কিছু মধ্যবিত্ত ক্রেতা আসছে। কসমেটিক্স, লুঙি, গামছা, বারমিজ জুতা-স্যান্ডেল ও শিশুদের পোশাক কিনছে তারা। অনেকে আবার কম দামের শাড়িও এখান থেকে কিনছে।’
ঈদে বাজারে সকল শ্রেণির ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে গড়ে ওঠা ফুটপাতের এসব দোকান কম আয়ের মানুষের ঈদের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা ফুটপাতের এসব দোকান ঈদের পরও এধরনের মার্কেট ধরে রাখতে পারলে এক দিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অন্যদিকে তেমন নি¤œ আয়ের মানুষের পোশাকের চাহিদা অনেক অংশে মেটাতে পারবে বলে মনে করেন তারা।

Print
1238 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close