জমে উঠেছে যশোরের ‘গরিবের ঈদবাজার’

এক্সপ্রেস ডেস্ক: ফুটপাথের নামহীন এক দোকান থেকে ৯০ টাকার একটি লাল টুকটুকে জামা পেয়ে যেন ঈদের চাঁদটাই হাতে পেয়েছে সাত বছরের সাবিনা সুলতানা।  নানি শহরের বকচর এলাকার খাদিজা জানান, তিনি স্থানীয় এক ছাত্রাবাসে রান্নার কাজ করেন। বুধবার দুপুরে মাইনের টাকা পেয়ে নাতনিকে নিয়ে বাজারে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আসা হয়নি। এজন্য মেয়েটা সেদিন রাগ করে ভাত খায়নি। তাই জামা পেয়ে সে আজ বেজায় খুশি। দু’দিন পরেই ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।
এই উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সাধ্যমতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধনী-গরিব সবাই তাদের সাধ্যমতো কেনাকাটা করে থাকেন।
যারা একটু বেশি সামর্থবান, তারা যাচ্ছেন শহরের অভিজাত বিপণীবিতানে। আর সামর্থ্য কম এমন ও মধ্যআয়ের মানুষজন যশোর শহরের ‘গরিবের মার্কেট’ বলে খ্যাত মুজিব সড়কের ফুটপাথে ভিড় করছেন।  যশোর শহরের মুজিব সড়কের ফুটপাথের ওপর গড়ে ওঠা মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, অস্থায়ী এসব দোকানে রং বে-রঙের নানা পোশাক থরে থরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। রাস্তার ’পরে ক্রেতার সংখ্যাও বেশ। দোকানদারদের দম ফেলার যেন সময় নেই।
কথা হয় ধর্মতলা এলাকার গৃহবধূ বিলকিস বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে মেয়ে। তাগের বড় দোকান থেকে ঈদজামা কিনে দিতি গেলি অনেক টাকা দরকার। সেই টাকা আমার নেই। তাই এই জায়গায় আইছি। বড় ছেলের জন্যি জামা আর প্যান্ট কিনিছি সাড়ে পাঁচশ টাকা দিয়ে। দুই মেয়ের জন্যি কম দামের ভালো জামা খুঁজতিছি।’ রবিউল ইসলাম ও বাবলু নামে দুইজন বিক্রয় কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই মার্কেটে ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে সব বয়সীদের জামাকাপড় পাওয়া যায়। তবে ছোটদের জামাকাপড় বেশি বিক্রি হয়। এই মার্কেটে ছোটদের পানজাবি ১৮০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় আর শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। ১০-১২ বছরের ছেলেদের প্যান্ট ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় আর শার্ট ১৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ছেলেদের থেকে মেয়েদের পোশাকের দাম অপেক্ষাকৃত একটু বেশি। মেয়েদের ফ্রকসহ বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে।
সরেজমিন দেখা যায়, এই মার্কেটের ক্রেতা শুধু গরিব মানুষই নয়, সম্পন্ন অনেক মানুষও এখান থেকে পোশাক কিনছেন। নাম প্রকাশ না করে বেজপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাসার কাজের মহিলার ছেলেমেয়েকে দেওয়ার জন্য জামা কিনতে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি অনেক ভালো মানের পোশাক এখানে বিক্রি হচ্ছে। তাই নিজের ছেলের জন্যও একটি প্যান্ট কিনেছি। ঈদের আগে এখানে আরেকদিন আসার ইচ্ছা আছে।’ ফুটপাথের এইসব দোকানে ‘বিক্রি-বাট্টা বেশ ভালোই’ বললেন আলমগীর নামে একজন দোকানি। তিনি বলেন, ‘এখন সমস্যা একটা, তা হলো যখন তখন বৃষ্টি। বৃষ্টি এলেই দোকানের ঝাপ নামিয়ে কাপড়-চোপড় রক্ষা করতে হয়।’

Print
2521 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close