বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ২০৩ কোটি টাকা!

এক্সপ্রেস ডেস্ক: গেল অর্থবছরে (২০১৫-১৬) বেনাপোল কাস্টমস থেকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে ২০৩ কোটি টাকা। অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রথমে ধরা হয় ৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। পরে তা কমিয়ে ২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।

আমদানিকারকরা বলছেন, বন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, আমদানি পণ্যে অযৌক্তিক শুল্ককর বৃদ্ধি, শুল্ক ফাঁকি ও সীমান্ত পথে চোরাচালানীর কারণে এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, সব কিছু নিয়মের মধ্যে হচ্ছে। আগের চেয়ে রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা বেড়েছে। ফলে লক্ষমাত্রা কমিয়ে হলেও তা পূরণ করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ভারত থেকে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমদানি হয় ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮৩ মেট্রিক টন। ফলে আমদানি ঘাটতি রয়েছে ৮০ হাজার ৩৬৫ মেট্রিক টন। এ জন্যই রাজস্ব আদায়ও কমেছে বলে জানান তিনি।

তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে আমদানি পণ্যে শুল্ক বাড়ানোয় আমদানি আরও কমার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, বাজেটে কিছু পণ্যের শুল্ককর বাড়ানোয় আমদানিতে আগ্রহ হারাবে ব্যবসায়ীরা। যারা বাড়তি মূল্যে পণ্য ছাড় করাবেন তারা ক্ষতি পোষাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, সব বন্দরে এক নিয়মে আমদানি পণ্যের শুল্ককর আদায়ের নিয়ম থাকলেও বেনাপোল বন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা বেশি মূল্য আদায় করেন। এতে বৈধপথে আমদানি কমে সীমান্ত পথে  চোরাচালান বাড়ছে। এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার এএফএম আব্দুল্লাহ খান জানান, তিনি যোগদানের পর থেকে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ককর আদায়ে স্বচ্ছতা এসেছে। ফলে রাজস্ব আদায়ও  বেড়েছে।

Print
1015 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close