যশোর শহরে যুবক যুবতীকে আটকে রেখে লাখ টাকা চাঁদা দাবি : দু’দফা ধর্ষণের ভিডিও ধারন করায় দু’টি মামলা : গ্রেফতার ২

ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একদল চিহ্নিত দুর্বৃত্ত এক যুবক ও যুবতীকে জোরপূর্বক ধরে অবৈধভাবে আটক করে তাদের আত্মীয়র কাছে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দাবি করে। এসময় যুবতীকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষন করায় কোতয়ালি মডেল থানায় দু’টি মামলা হয়েছে। দুই দূবৃর্ত্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া সৈয়দ পাড়ার বর্তমানে যশোর শহরের বকচর চৌধুরী পাড়ায় বসবাসরত ডাক্তার মাহবুব এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত সৈয়দ আসাদুজ্জামানের ছেলে ও বকচর চৌধুরী পাড়ার সৈয়দ আকরাম হোসেনের বড় জামাই সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিম ও শহরের বকচর মসজিদ পাড়ার আশরাফ হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন জুম্মান। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপহৃতা সবুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বাক্ষ্য দিয়েছে।

যশোরের শার্শা উপজেলার পন্ডিতপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোড এলাকার ভাড়াটিয়া (২০) বছরের এক যুবতী বুধবার দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালি মডেল থানায় ৯ দূর্বত্তের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি এজাহারে বলেছেন, শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া উত্তরপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলেস সবুজ (২০) তার পূর্ব পরিচিত। ৯ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় সবুজ যশোর এসে তার নাম্বারে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে বলে তার যশোরে থাকার কোন ব্যবস্থা আপাতত নাই। তাই তাকে এক বাসায় রাখতে হবে। উক্ত যুবতী তার এক বান্ধবীর নানী বকচর চৌধুরী পাড়ার ডাক্তার মাহবুব এর বাড়ির ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলামের স্ত্রী সালমার বাড়িতে নিয়ে আসে।

সেখেোন সন্ধ্যার দিকে সবুজকে রেখে উক্ত যুবতী তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাইরে বের হলে সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিমসহ সহযোগী জাকির হোসেন ওরফে জুম্মান, বকচরের শুকুর আলীর ছেলে জুলহাস, বকচর মসজিদ পাড়ার মৃত আকরামের ছেলে রুবেল, আবু বক্কার সিদ্দিকীর ছেলে তাজুল, জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, তোফাজ্জেলের ছেলে রাজিব, মৃত রবির ছেলে বকুল ও রেজাউল ইসলামের ছেলে জাকির ঘিরে ধরে। উক্ত সালমার ঘরে জোর পূর্বক ঢুকিয়ে সবুজ ও উক্ত যুবতীকে একটি ঘরে আটকে রাখে। তাদেরকে জোরপূর্বক খারাপ করানোর অপবাদ দিয়ে যুবতীর কাছে ১লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সবুজকে মারপিট করে। এর মধ্যে যুবতীর শরীরে করিম ও জুম্মান হাত দেয়।

পরবর্তীতে রাত ১০ টার পর সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিম সবুজকে বাঁচাতে হলে তার সাথে সেক্স করতে হবে। এর পর জোর পূর্বক দু’জনকে উলঙ্গ করে মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ধারন করে ইন্টার নেট, ফেইসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকী দেয়। করিম উক্ত যুবতীকে সালমার ঘরে ও উপরে কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক দু’দফা ধর্ষন করে। উক্ত যুবতী বুধবার বিকেলে কৌশলে পালিয়ে গিয়ে ফোনের মাধ্যমে সবুজের ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের সহায়তায় সবুজকে উদ্ধার ও সৈয়দ করিমুজ্জামান করিম এবং জুম্মানকে গ্রেফতার করে। সবুজের ভাই তার দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন, তার ভাই খড়কী বৃত্ত ছাত্রাবাসের থেকে যশোর সিটি কলেজে লেখাপড়া করতো। যশোরের এক যুবতীর সাথে তার প্রেমজ সম্পর্ক থাকায় ৯ জুন সবুজ শার্শা থেকে যশোর আসে। খড়কী বৃত্ত ছাত্রাবাস ছেড়ে দেওয়ার কারণে সেখানে না গিয়ে শহরে অবস্থান করলে উক্ত দূবৃর্ত্তরা তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে। পরে তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন করে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য সবুজের ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দূবৃর্ত্তরা যোগাযোগ করে। সবুজের ভাই পুলিশের সহায়তায় সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিম ও সহযোগী জাকির হোসেন ওরফে জুম্মানকে গ্রেফতার করে।

Print
118 মোট পাঠক সংখ্যা 3 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close