যশোরে কলেজ-মাদরাসাছাত্রসহ ৭ তরুণ নিরুদ্দেশ

এক্সপ্রেস ডেস্ক: যশোরে কলেজছাত্র, মাদরাসাছাত্রসহ ৭ তরুণে কেউ তিন মাস, কেউবা দেড় বছর ধরে বাড়ি ছাড়া। প্রশাসন নিখোঁজ তরুণদের তালিকা তৈরি করে তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখছে। তারা কোনো না কোনো জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত বলে সন্দেহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার। এজন্য তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তবে সাত জনের মধ্যে দুইজনের বাড়িতে গিয়ে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিখোঁজ তরুণেরা স্থানীয় কারো সাথে তেমন মিশতেন না। এলাকায় তাদের বয়সী তেমন বন্ধু-বান্ধব নেই। তাদের আচরণ ও চলাফেরা ছিলো অনেকটা অস্বাভাবিক।

যশোর মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের পদার্থ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র কাজী ফজলে রাব্বি (২১) গত ৫ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার বাড়ি সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকায়। কলেজে যাওয়ার কথা বলে ফজলে রাব্বি পিঠে ঝুলানো একটি ব্যাগে জামা কাপড় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সেই থেকে তিনি আর ফেরেননি। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি কলেজ থেকে নিজের ভর্তি বাতিল করে সমস্ত কাগজপত্র তুলে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফজলে রাব্বির বাবা কাজী হাবিবুল্লাহ ৭ এপ্রিল যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ফজলে রাব্বির ফিরে আসার জন্য তার বাবা কাজী হাবিবুল্লাহ দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজলে রাব্বি এলাকায় তেমন কারো সাথে মিশতেন না। তবে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের সঙ্গে ছিলো তার গভীর সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে ঈদের দিন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ফজলে রাব্বির বাড়িতে গিয়ে তথ্যানুসন্ধান করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, ফজলে রাব্বি ৬টি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করছে। কোনো নির্দিষ্ট নম্বরে তিনি থাকেন না। কখনো মুঠোফোন সেটাও বদল করে ফেলছেন।

যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মো. মেহেদী হাসান ওরফে হুসাইন জীম (১৫) গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছে। সে ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীরদরগাহ মাদরাসার বোর্ডিংয়ে (আবাসিক) থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। এ বিষয়ে মেহেদী হাসানের বাবা মো. আওরঙ্গজেব গত ১২ এপ্রিল শার্শা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

গত বছরের ৭ এপ্রিল মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এক বছরের মধ্যে স্বজনদের সাথে সে কোনো ধরণের যোগাযোগ করেনি। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন দুপুরে চুল কাটাতে যাওয়ার কথা বলে আবার নিখোঁজ হয়।

মেহেদীর বাবা মো. আওরঙ্গজেব বলেন, তিন মাস আগে মেহেদী বাড়িতে ফিরলে তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। সাধু ভাষায় কথা বলছিলো। কারো সাথে তেমন কথা বলেনি। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার চেষ্টা করেও তাকে ঘর থেকে বের করা যায়নি। পরদিন সকালে চুল কাটাতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর ফেরেনি।

মেহেদী হাসানের এক স্বজন জানান, মেহেদীর আচরণ ও কথাবার্তা ছিলো অস্বাভাবিক। কোনো জঙ্গি সংগঠনের সাথে সে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমন সন্দেহ আমাদেরও। যে কারণে দ্বিতীয় দফায় শার্শা থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। মেহেদীর বাবা আওরঙ্গজেব অভিযোগ করে বলেন, ওই গাজীরদরগা মাদরাসা থেকেই আমার ছেলের মাথা বিগড়ে গেছে। ওই মাদরাসা থেকে আরো কয়েকজন ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

মাদরাসার অধ্যক্ষ বজলুর রহমান বলেন, মাদরাসার যে ছাত্ররা নিখোঁজ হয়েছে, তারা বাড়িতে গিয়েই নিখোঁজ হয়েছে। র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, তারা নিখোঁজ তরুণদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তারা (নিখোঁজ) সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। অনেকের পরিবারও সন্দেহ করছেন।

Print
913 মোট পাঠক সংখ্যা 1 আজকের পাঠক সংখ্যা

About Jessore Express

Close